আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

করোনা ঝুঁকিতে ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এবং তার যোগাযোগ বিষয়ক সচিব ফাবিও ওয়াজনগার্টেন। গত সপ্তাহান্তেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এতে গুঞ্জন ওঠেছে, ওয়াজনগার্টেনের কাছ থেকে ভাইরাসটি ট্রাম্পের শরীরেও ছড়িয়ে থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভয়াবহ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে গেলেন ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কাও।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ও হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে এক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা করার পর অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটন মহামারি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তখন করোনায় আক্রান্ত পিটারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন ইভাঙ্কা। মূলত এসব কারণেই ইভাঙ্কা ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনায় আক্রান্ত অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার বর্তমানে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতে আছেন।
এ দিকে শুক্রবার (১৩ মার্চ) টুইট বার্তায় পিটার ডুটন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শরীরে অতিরিক্ত তাপ অনুভব করছি। সঙ্গে সঙ্গে আমি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করি। হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে আমাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।
বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। খবর রয়টার্সের।হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আমি জাতীয়ভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সকল রাজ্যে জরুরি কেন্দ্র খোলা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button