শিক্ষাশিরোনাম

ক্লাস-পরীক্ষার দাবিতে শাবিপ্রবির পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন

ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ ৪ দফা দাবিতে আমরণ অনশন করছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবন ‘এ’ এর সামনে বুধবার সকাল ১১টায় আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রাফি আদনান দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আমরণ অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছি। ২ মার্চ আমাদের দাবি পেশ করেছি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো গত ৪ মার্চ কোন কারণ ছাড়া ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা গত ৭ দিন থেকে আন্দোলন করে যাচ্ছি। তবে কোন শিক্ষক আলোচনা মাধ্যমে এ বিষয় সমাধান করার জন্য আসেনি।”
অপর শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন বলেন, “বিভাগে তো এমন কোন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি তবে কেন ক্লাস পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হলো। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার বিভাগের স্টেক হোল্ডার আমরাও। তবে কেন আমাদের সম্পূর্ণভাবে অন্ধকারে রেখে এ সিদ্ধান্ত। আমরা বারবার আলোচনার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। তবে শিক্ষকেরা ক্লাস পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যাপারে অটল। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।”
অনশনে অংশ নেওয়া আলাউদ্দিন মোহাম্মদ আদিল বলেন, “এপ্রিল থেকে আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। এ সময় ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে আমাদের শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা ক্লাসে ফিরতে চাই।”
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি: বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টা মুহাম্মদ ওমর ফারুকের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে পরবর্তী ছাত্র উপদেষ্টা নিয়োগ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ব্যাচের কোনো প্রকার একাডেমিক কর্মকাণ্ডের (ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা, ল্যাব, ভাইভা অথবা প্রথম বা দ্বিতীয় পরীক্ষক হিসেবে খাতা দেখা) সঙ্গে বর্তমান বিভাগীয় প্রধান শামছুন নাহার বেগম ও মুহাম্মদ ওমর ফারুক সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবেন না এবং বিভাগীয় প্রধানকে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য ছাত্রদের নিকট জবাবদিহি করতে হবে।
এ দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বিভাগের রজতজয়ন্তী উৎসব পালনকালে বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে একাডেমিক ফলাফল নিয়ে হুমকি দেন এমসি কলেজের এক শিক্ষক। এ সময় বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগীয়প্রধান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে বহিরাগত শিক্ষককে বাধা প্রদান না করে দাঁড়িয়ে থাকেন বিভাগের শিক্ষকেরা।
এতে গত ২ মার্চ শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধানের কাছে ঘটনার জবাবদিহি ও বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবি জানানোর পরের দিন ভিকটিম ছাত্রসহ আরও কিছু শিক্ষার্থীকে বিভাগীয় প্রধানের রুমে ডাকা হয়। তখন বিভাগীয় প্রধানের রুমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় । এর প্রেক্ষিতে ৪ মার্চ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেয় বিভাগের প্রধান।
এ বিষয়ে স্কুল অব ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা যে দাবিগুলোর কথা আমাকে বলেছে সেগুলো আমি বিভাগের শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। সবাই যদি চায় এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তাহলে সেটা এখন সম্ভব।”
এ বিষয়ে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামছুন নাহার বেগমের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি কল ধরেননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button