
সৌদি আরবে আর নারীকর্মী পাঠানো হবে কিনা এ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি ইসরাফিল আলম এমপি। শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে না পারলে কর্মী পাঠানো বন্ধ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
বুধবার (০৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআআইএসএস) অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন ও সিভিল সোসাইটির সহযোগীতা’ শীর্ষক দিনব্যাপী মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সলিডারিটি সেন্টার বাংলাদেশ-এর সহযোগীতায় ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাইন্ডেশন।
ইসরাফিল আলম বলেন, যারা বিদেশে যাচ্ছে তাদের ডাটাবেইস হচ্ছে, কিন্তু যারা ফিরে আসছে তাদের ডাটাবেজ হচ্ছে না। আমরা যেসব ডেডবডি রিসিভ করছি,এই ডেডবডিগুলোর পোস্টমর্টেম হচ্ছে না। কীভাবে মারা গেল? এটা কী টর্চার? হার্ট অ্যাটাক? অ্যাক্সিডেন্ট? আমরা কিন্তু জানি না।
তিনি বলেন, সুস্থ্য মানুষ গেল মেডিকেল টেস্ট করে ফিটনেস নিয়ে বিদেশ গেল, আর ডেডবডি হয়ে ফিরলো।এটার জানার অধিকার ওই পরিবারগুলোর আছে বলে মনে করি। যে মানুষই মৃত্যুবরণ (প্রবাসে) করুক, তার পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা নিরপেক্ষভাবে হওয়া উচিত। আমরা আমাদের মেয়েদের এই দৃশ্য দেখতে চাই না। আমরা তাদের পাঠাচ্ছি কাজের ভিসায়। শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, যদি সত্যি সত্যি নারী শ্রমিক পাঠাতে চাই তাহলে যে দেশে পাঠাবো সেখানে আমার শেল্টার হাউজ থাকতে হবে। শেল্টার হোম থাকতে হবে। ৪-৫ তলা ডর্মেটরি করতে হবে। মেয়েরা সারাদিন কাজ করবে, সন্ধায় এসে শেল্টার হামে হোমে থাকবে। সকালে কাজের জায়গায় যাবে। তাহলে এই অবস্থা হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি তো মেয়েরা কী অবস্থায় ফেরত আসছে। তাদের সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহৃ। ক্ষত-বিক্ষত, রক্তপাত। কোনো মানুষ এভাবে মেয়েদের টর্চার করতে পারে না। গাল্ফ (মধ্যপ্রাচ্য) কান্ট্রিতে মেয়েদের যে ভায়োলেশন দেখলাম, এটা তো বাংলাদেশে কল্পনাও করতে পারি না। বিদেশে আমরা নারী শ্রমিক প্রেরণ করবো কী করবো না। সেটা নিয়ে পর্যালোচনার সময় এসেছে। কারণ ওদের (নারী) মান-মর্যাদা ও সন্মানের সাথে আমাদের লাল সবুজ পতাকার সম্মান জড়িত।
ইসরাফিল আলম বলেন, চুক্তির শর্তগুলো তারা ভায়োলেশন করে আসছে। তারা শর্ত অমান্য করে আমাদের মেয়েদের লাঞ্ছিত করছে। যখন এগ্রিমেন্ট ভায়োলেশন হয়, মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডাস্ট্যান্ডিং ভায়োলেশন হয় তখন আর কোনো কিছুর মূল্য থাকে না। তারপরেও আমরা কেন কোন আশা-ভরসায় এই মেয়েদেরকে পাঠাবো?
তিনি বলেন, সেখান থেকে আমাদের নারীরা লাঞ্চিত হয়ে, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসছে। তাদের প্রটেকশন যেকোনোভাবে আমাদের করতে হবে। আর যদি করতে না পারি তাহলে আমাদের মা- বোনদের পাঠাবো না। আমরা এই দৃশ্য দেখতে চাই না।




