অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

মালয়েশিয়া থেকে তিন মাসে ৩৮৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা দেশে প্রেরণ

মালয়েশিয়ায় থেকে গত তিন মাসে ৩৮৪ কোটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়া অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ থেকে বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ১৩৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে এ তিন মাসে ২৫১ কোটি ১৬ লাখ ৪ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন তারা।
চলতি বছরে গত তিন মাসে বৈধপথে এ পরিমাণ টাকা মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়াস্থ এনবিএল ও অগ্রণী রেমিট্যান্সের সংশ্লিষ্টরা।
এ দিকে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া শুরু হয়েছে। আর এ প্রণোদনা ১২ অক্টোবর থেকে প্রথমেই অগ্রণী ব্যাংক দেওয়া শুরু করেছে। এর আগে ১৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার গ্রান্ড মিলেনিয়াম হোটেলে অগ্রণী রেমিটেন্স হাউজের ১৪ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া থেকে যারা অগ্রণী রেমিটেন্স হাউজের মাধ্যমে বৈধ পথে দেশে সর্বোচ্চ অর্থ পাঠিয়েছেন, তাদের সম্মাননা জানানো হয়।
সম্মাননা পেয়েছেন, সানওয়ে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর সাইদুর রহমান, প্রফেসর মাইন খন্দকার ও প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম খোকন।
২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ চ্যানেলে প্রেরিত রেমিটেন্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেন মালয়েশিয়াস্থ অগ্রণী ব্যাংক নিয়ন্ত্রীত অগ্রণী রেমিটেন্স হাউজের চীফ এক্রিকিউটিভ অফিসার ও ডাইরেক্টর খালেদ মোর্শেদ রিজভী।
তিনি বলেন, সরকার রেমিট্যান্সকে বৈধ চ্যানেলে আনার জন্য উৎসাহ দিতে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বাজেটে। তবে সিস্টেম ডেভেলপ করার জন্য এটার বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লেগেছিল। সবাইকে (রেমিটেন্স প্রেরণ ও গ্রহণকারী) এই মুহূর্তে কেউ ব্যাংকে গেলে রেমিটেন্স পাঠাতে পারবেন এবং ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাচ্ছেন।
অর্থাৎ ১ হাজার টাকা পাঠালে দেশে তাঁর অ্যাকাউন্টে যোগ হবে ১ হাজার ২০ টাকা, লাখে ২ হাজার টাকা। বৈধ পথে টাকা পাঠানো উৎসাহিত করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকার রফতানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যে একাধিক হারে প্রণোদনা দিলেও এর বাইরে প্রথমবারের মতো সেবাখাত হিসেবে প্রবাসি আয়ে একই সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে প্রবাসিদের এ সুবিধা দেয়া হবে। সরকার আশা করছে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি অর্থাৎ প্রবাসিদের জন্য এ সুবিধা কার্যকর করায় দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়া প্রবাসীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেব মতে গত পাঁচ বছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭ হাজার ৪৪১ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা (১ ডলার ৮৮ টাক ধরে)।
মালয়েশিয়া থেকে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৩৩ কোটি টাকা বাংলাদেশে প্রেরণ করেছেন প্রবাসীরা। এ অর্থ শুধু অগ্রণী রেমিটেন্স হাউজের মাধ্যমে প্রবাসীরা প্রেরন করেছেন। অবিচল আস্থা অর্জনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ব্যাংকিং সেবার ১৪ বছর পূর্ণ করায় বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণাধীন মালয়েশিয়া অগ্রণী রেমিটেন্স হাউজ।
এ ছাড়া মালয়েশিয়াস্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে বৈধ পথে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৫১ কোটি ১৬ লাখ ৪ হাজার টাকা প্রবাসীরা দেশে রেমিটেন্স প্রেরণ করেছেন।
এ বিষয়ে মালয়েশিয়াস্থ এনবিএল রেমিট্যান্স হাউসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ আক্তার উদ্দিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে এনবিএলের পক্ষ থেকে আমরা সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, ২% ইনসেন্টিভ ঘোষণার পর থেকে সাধারন প্রবাসীদের পাশাপাশি হুন্ডি ব্যবসায়িরাও বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে ভিড় করছে। কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে টাকা এনে ব্যাংকের মাধমে টাকা পাঠিয়ে ২% টাকা হুন্ডি ব্যবসায়িরা নিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ কর্মীরা প্রণোদনা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হুন্ডি ব্যবসায়িদের অটকানো যাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে সরকার আরও কঠোর হওয়ার অনুরুধ জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
প্রবাসীদেরকে বলা হচ্ছে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানো নিরাপদ এবং এনবিএলের ৯টি শাখার পাশাপাশি এজেন্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে যাতে করে এনবিএলের সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিগত পাঁচটি অর্থবছরের মধ্যে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স নিম্নমুখী হলেও ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিদায়ী অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জিডিপিতে ১২ শতাংশের বেশি অবদান রেখেছে। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০টি দেশ হলো যথাক্রমে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। বিশেষ করে অবৈধ হুন্ডি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। তারা মনে করেন, গত তিন বছর ধরে যেভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে তা ধরে রাখতে হলে বিদেশে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button