রাখাইনে হেলিকপ্টার হামলায় কয়েক ডজন সেনা-পুলিশ নিহত

জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের হাতে অপহরণকৃত কয়েক ডজন সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের অধিকাংশই সরকারি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে চালানো হামলায় মারা গেছেন।
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রোববার (২৮ অক্টোবর) আরাকান আর্মির ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অপহরণকৃত সেনা, পুলিশ ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের তিনটি নৌকায় করে একটি স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এ সময় সরকারি হেলিকপ্টার থেকে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে অপহৃতদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যায়। সরকারি বাহিনীর এই হেলিকপ্টার হামলায় অপহৃতরা ও আরাকান আর্মির অনেক সদস্যের প্রাণহানি ঘটে। তবে আরাকান আর্মির এই দাবির ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে আরাকান আর্মি।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জ্য মিন তুন বলেন, শনিবার সকালের দিকে রাখাইনের রাজধানী সিত্তের উত্তরাঞ্চলে নৌযানে কর্তব্যরত পুলিশ ও সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে নদীর তীর থেকে গুলি ছোঁড়ে বিদ্রোহীরা।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ১০ জনের বেশি সদস্য, ৩০ জন পুলিশ ও কারা বিভাগের আরও দুই কর্মী ওই নৌযানে ছিলেন। পরে ৪০ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বিদ্রোহীরা।
এদিকে বিদ্রোহীদের অবস্থান শনাক্ত করতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে মিয়ানমার আর্মি। নদীর তীরবর্তী এলাকার আশপাশে বিদ্রোহীদের বিশাল ঘাঁটি শনাক্ত করার কথাও জানিয়েছে তারা।
রোববার রাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, অপহৃতদের উদ্ধার তৎপরতার অংশ হিসেবে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সময় স্থলভাগ থেকে ছোড়া গুলিতে হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত এবং ক্রু সদস্যরা আহত হয়েছেন। তবে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।




