রাজনীতিশিরোনাম

‘২০০৬ এর পর থেকে হিসাব দিচ্ছি, এখন আপনারা দেন’

প্রধানমন্ত্রী সবার টাকার হিসাব নেবেন বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ২০০৬ সালের পর থেকে হিসাব দিতেই আছি। দুদক-কোর্ট কাচারি সব জায়গায় হিসাব দিচ্ছি। আমরাতো হিসাব দিচ্ছি। এখন আপনারা একটু দেন না।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।
মানববন্ধনে মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের মাটিও থাকবে না। এ দেশে আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবো না। এখনো পারি না, তারপরও বলছি, আর বলতে পারবো না। আমাদের অবস্থা বিশ্বের অনেক মুসলমানদের চেয়েও খারাপ হয়ে যেতে পারে। এমন সম্ভাবনা আমি লক্ষ্য করছি।
তিনি বলেন, এ সরকার রাতের অন্ধকারের সরকার, এ সরকারের লজ্জা নাই, তারা রাতের অন্ধকারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে, ভোট হয় নাই। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ তারিখ রাতে হয়ে গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, নেত্রী (খালেদা জিয়া) অসুস্থ মানবিক কারণে তিনি মুক্তি পেতে পারেন, চিকিৎসার জন্য মুক্তি পেতে পারেন, কিন্তু তাকে চিকিৎসারও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। যদিও আইওয়াশ করার মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন। দেশনেত্রীকে তারা তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে এ দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
মির্জা আব্বাস বলেন, সেদিন দেখলাম ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বলেছে তারেক রহমানকে অপরাধী প্রমাণ করতে বাংলাদেশ সরকারের ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছেন এতে আমার দুঃখ নাই। আমার দুঃখ হইলো এ টাকাটা পাইলেন কোথায়? কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাটা ব্যয় হয়েছে। আমি টিআইবির সূত্র ধরে বলছি, এটা আমার সূত্র না। এতো বড় সূত্র আমার জানার কথা না। তার মানে আপনারা পুরো বিএনপিকে গ্রাস করার চেষ্টা করছেন।
চলমান অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র দু’জন ‘টোকাই’ ধরেছেন তাদের পকেট থেকে যদি এতো টাকা বের হয়, তাহলে বাঘা বাঘাদের পকেট থেকে কতো টাকা বের হবে। (প্রধানমন্ত্রী) আপনি বলেছেন ঘর থেকে পরিচ্ছন্নতা শুরু করেছেন আপনার বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। আশা করি খুব দ্রুত আপনি রাঘব বোয়ালগুলোকে ধরবেন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ উপহার পাঠানো হলো। ৫০০ টাকা কেজি দরে। খুব ভালো আমরা বাংলাদেশের জনগণ আত্মীয়তা ভালোবাসি। বিনিময়ে আমরা কি পেলাম? ১০৯টা ফারাক্কার গেট খুলে দিছে। বন্যায় ভেসে যাবে।
এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে একজন বলে ওঠেন বাজারে পেঁয়াজ নাই। তার জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, পেঁয়াজ নাই একথা বলেন কেন। ইলিশ মাছ দিছেন পেঁয়াজ ছাড়া খাবে কেমনে। সেজন্য পেঁয়াজ দেয় না। তবে পেঁয়াজের কেজি এখন ১২০/১৩০ টাকা। সচিব বললেন উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নাই। পেঁয়াজ কতো টাকা হলে আপনি উদ্বিগ্ন হবেন সেটা কি প্রকাশ করবেন? তাহলে জনগণ খুশি হতো।
বিএনপি নেতা আব্বাস বলেন, সচিবালয়ের পাশে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪৫ টাকা কেজি। তাহলে বাজারে কেন ১২৫ টাকা। এটা সবার জানা দরকার। এটাও এক প্রকার দুর্নীতি।
কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, কৃষক দলের যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, কৃষক দল নেতা সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, শাহজাহান মিয়া সম্রাট, এস কে সাদী প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button