শিক্ষাশিরোনাম

রাবিতে নিয়োগ বাণিজ্য, উপ-উপাচার্যের ফোনালাপ ফাঁস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। সেই ফোনালাপে আইন বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এক চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রীর কাছ থেকে উপ-উপাচার্যের দর-কষাকষির চিত্র উঠে আসে। ৩০ সেপ্টেম্বর, সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই ফোনালাপটি ফাঁস হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘কী জানি, কোন মেয়ে কখন আসছে।’
ওই নারীর সঙ্গে দর-কষাকষির বিষয়ে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘আমি মেয়েদের সঙ্গে কথা তো কমই বলি, টেলিফোনে আমি বলি যে, তোমার সঙ্গে দেখা করারও দরকার নেই, কথা বলারও দরকার নেই।’
জানা গেছে, ওই চাকরিপ্রত্যাশীর নাম মোহাম্মদ নুরুল হুদা। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে অনার্সে ৩.৬৫ ও মাস্টার্সে ৩.৬০ পান। আইন অনুষদে সেরা হওয়ায় ২০১৭ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক এবং ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পান। তার বাড়ি চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার এলাকা লালমনিরহাটে। তবে ওই বিভাগে তিনজন প্রভাষক হলেও নিয়োগ পাননি মোহাম্মদ নুরুল হুদা।
জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে তিনটি প্রভাষক পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। গত বছরের ১৩ নভেম্বর ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর ১৭ নভেম্বর সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ অনুমোদিত হয়। এর পরদিন ১৮ নভেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তরা বিভাগের যোগদান করেন।
ওই নিয়োগে প্রভাষক পদে বিভাগে যোগদান করেছেন ফোনালাপ ফাঁস হওয়া উপ-উপাচার্যের মেয়ের জামাই সাইমুন তুহিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডুর মেয়ে নূর নূসরাত সুলতানা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী বনশ্রী রানী।
ফেসবুকে প্রকাশিত ফোনালাপটি তুলে ধরা হলো
উপ-উপাচার্য : হ্যাঁ, সাদিয়া। আমি প্রফেসর জাকারিয়া (চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর।
চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী : আসসালামু আলাইকুম স্যার।
উপ-উপাচার্য : ওয়ালাইকুমুস সালাম। আচ্ছা মা, একটা কথা বলতো, তোমরা কয় টাকা দেওয়ার জন্য রেডি।
চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী : স্যার, সত্যি কথা বলতে…
উপ-উপাচার্য : না না, সত্যি কথাই তো বলবা। উপরে আল্লাহ তায়ালা, নিচে আমি।
চাকরিপ্রত্যাশীর স্ত্রী : অবশ্যই, অবশ্যই। স্যার, আপনি যেহেতু তার অবস্থা জানেন, আরেকটা বিষয় এখানে স্যার, সেটা হচ্ছে, আপনি হুদার… মানে, এমনিতে সে কতটা স্ট্রিক…, আপনি বোধহয় এটাও জানেন স্যার, একটু রগচটা ছেলে।
উপ-উপাচার্য : আচ্ছা রাখো রাখো, এখান থেকে কথা বলা যাবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button