উপমহাদেশশিরোনাম

এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই : হাসিনাকে মোদি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে বাংলাদেশকে উদ্বিগ্ন না হতে আশ্বস্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দুপুরে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন মোদি।
মোদি বলেন, ‘বিষয়টি (এনআরসি) একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এতে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’
চলমান জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি শেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে তিস্তাসহ সাতটি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের সমস্যা ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক আরও কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী বছরের মার্চে বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন মোদি।
পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই নেতার বৈঠক অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের বড় অংশজুড়ে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ।’
ড. মোমেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তাই এ ধরনের ইস্যু নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই।’
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন ইস্যুর প্রসঙ্গও তোলেন। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনআরসি ও পানি বণ্টনের মতো ইস্যুগুলোকে আমরা সহজভাবে নিতে পারি। কারণ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মোদি শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নির্ধারণে কাজ করবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
কোনো বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আগামী ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে দুই নেতার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এনআরসি ইস্যুতে ভারতের মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা প্রতিদিনই বাংলাদেশকে জড়িয়ে নানা মন্তব্য করছেন।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এনআরসি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনই রাজনৈতিক আলোচনা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ ঝামেলা এড়াতে ঢাকাকে এখন থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রায় আধাঘণ্টার এ বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ফারুক খান, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রদূত বিজয় কেশব গোখলে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button