জাতীয়শিরোনাম

ডেঙ্গু ঠেকাতে পুরুষ মশা বন্ধ্যাকরণে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা

রাজধানী ঢাকায় বছরের পর বছর ধরে মশক নিধনের জন্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এডিস মশার কারণে যে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটে সেই মশা এখন মানুষের কাছে এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। এবার ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার জীবাণুবাহী এডিস মশা বন্ধ্যা করার মধ্য দিয়ে এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান দ্য কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিএসআইআরও) তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ বিষয়ে মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, দেশের সাম্প্রতিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিষয়ে অবহিত হয়ে তারা এসেছেন। কীভাবে আমাদের সরকারকে, এই শহরকে সাহায্য করা যায় সেজন্য তারা এসেছেন।
তারা মশা বন্ধ্যাত্বকরণের একটি পদ্ধতির সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন জানিয়ে সে বিষয়ে খোকন বলেন, “এইডিস মশার শরীরে এক ধরনের উপদান দিয়ে কিছু এইডিস মশাকে বিভিন্ন এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে, সেই মশাগুলো যখন স্ত্রী এইডিস মশাগুলোর সঙ্গে মিলন ঘটাবে তখন সেই স্ত্রী মশার প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দেবে।
এই প্রজনন ক্ষমতা যখন নষ্ট হয়ে যাবে, তখন ধীরে ধীরে এইডিস মশার সংখ্যা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনার মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট করবে। এটার সক্ষমতা যাচাই করার জন্য বাংলাদেশ সফরে আছেন।
অস্ট্রেলিয়ার এই প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘুরে এসেছেন বলে জানান সাঈদ খোকন।
আমাদের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দেশে ফিরে এই ব্যাপারে পরবর্তীতে আরেকটি সফরের মধ্য দিয়ে আমাদের একটা প্রস্তাব দেবেন। সরকার যদি মনে করেন ওই পদ্ধতি ইতিবাচক তাহলে সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আমরা অংশগ্রহণ করব।
এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র জানান, বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কত খরচ হবে না হবে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
“তারা দেখে যাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটুকু কার্যকর করা যায়, সে সব বিষয়ে ধারণা নেবেন।
ইতোমধ্যে চীনসহ কয়েকটি দেশে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত দুই সপ্তাহ সামগ্রিকভাবে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমে এলেও ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬০ ও ৬৯ শতাংশ হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটিতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু সন্দেহে ২০৩ মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এরমধ্যে ১১৬ মৃত ব্যক্তির তথ্য পর্যালোচনা করে ৬৮ জনের ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ৪৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button