ভারতের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করতে ভারত সাজানো হামলা চালাতে পারে। এমন কিছু ঘটলে পাকিস্তান সর্বশক্তি দিয়ে তার মোকাবেলা করবে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বকে সতর্ক করছি যে, আজাদ কাশ্মীরে ভারত গুরুতর কিছু করবে। আমি অবশ্যই মোদিকে হুশিয়ারি দিয়ে বলছি- ভারত যদি দুরভিসন্ধিমূলক কিছু করতে চায়, যে কোনো হামলার কঠিন জবাব দেবে পাকিস্তান।
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) অধিকৃত কাশ্মীরিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ইসলামাবাদের কনস্টিটিউশন অ্যাভিনিউতে এক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
ইমরান খান বলেন, আমাদের বিজেপি ও আরএসএসের রাজনীতি বুঝতে হবে। আরএসএস মনে করে হিন্দুরা সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাদের ইশতেহার হচ্ছে- হয় মুসলমানদের ভারত থেকে বের করে দেও, নতুবা তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানিয়ে দাও। নাৎসিবাদীরা যেভাবে জার্মানিকে জিম্মি করে রেখেছিল, আরএসএসের মতাদর্শও সেভাবে গ্রহণ করেছে ভারত।
কাশ্মীরিদের পক্ষে ইতিমধ্যে বিশ্বের দাঁড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম এখানে একটি পরিচয়সূচক ভূমিকা রেখেছে, বললেন সাবেক এ ক্রিকেট কিংবদন্তি।
তার মতে, মুসলমানরা যখন নিপীড়িত হয়, দুর্ভাগ্যবশত বিশ্ব তখন নীরব থাকতে চায়। কাশ্মীরের অধিবাসীরা যদি মুসলমান না হতেন, তবে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হতো।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকে বোঝা দরকার যে, ভারতীয় বিষাক্ত মতাদর্শে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকে আক্রান্ত হবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যেকোনো সংঘাতে সারা বিশ্বের জন্য বিপর্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকেই কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় দুনিয়ার ভূস্বর্গ খ্যাত এ উপত্যকা। সেখানে কারফিউ জারি ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, অ্যক্টিভিস্টসহ প্রায় তিন হাজার মানুষকে। অনেককেই রাজ্যের বাইরের কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।




