শিরোনাম

পেট না ভরা পর্যন্ত মরিচ খাওয়াই তার অভ্যাস

গ্রামের লোকজন তাকে ‘মরিচ খাওয়া মোবারক’ নামেই চেনেন। কারণ তিনি একটার পর একটা কাঁচামরিচ খান শুধু। আগে লোকেরা মোবারক মোল্লার সঙ্গে মরিচ খাওয়া নিয়ে বাজি ধরতেন। কিন্ত এখন আর কেউ সেই সাহস পান না। কারণ বাজি ধরলেই নিশ্চিত পরাজয়। মরিচ খাওয়াটা যে তার কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। একটি বা দুটিও নয়, পেট না ভরা পর্যন্ত মোবারক মোল্লা মরিচ খেতে পারেন।
মোবারক বাড়ি রাজশাহী জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরের হলিদাগাছি। হলিদাগাছি পশ্চিমপাড়া এ গ্রামেরই বাসিন্দা মোবারক। বয়স এখন প্রায় ৭০ বছর। তিন মেয়ে আর এক ছেলের বাবা তিনি। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকেও বিয়ে করিয়েছেন। এখন স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ এবং দুই নাতি-নাতনির সঙ্গে থাকেন মোবারক মোল্লা।
মোবারকের কথায়, তার কাছে মরিচের স্বাদ চকলেটের মতো। তাই কারও বাড়ি বেড়াতে গেলে মোবারক নাস্তার বদলে কাঁচামরিচই চেয়ে খান। কাঁচা মরিচকে বলে থাকেন ‘গাছ মরিচ’।
মরিচ খেয়ে কোনো সমস্যা হয় কি-না জানতে চাইলে মোবারক বলেন, ‘আমি অসুস্থ হই না, মরিচ খেলেই আমার সব অসুখ ভাল হয়ে যায়।’
মরিচ খাওয়ার মোবারকের ভাষ্যমতে, ছোটবেলায় একদিন মাঠে কাজ করছিলেন। হঠাৎ একটা গাছে দেখেন অনেক বড় বড় কাঁচামরিচ। মোবারক একটা মুখে দেন। তারপর দেখেন, ঝাল লাগছে না। নিজেই অবাক হন মোবারক। যারা সঙ্গে ছিলেন তাদের বিষয়টি জানালেন মোবারক। কেউ বিশ্বাস করতে চাইল না। তারা চ্যালেঞ্জ করে বসল। মোবারক তাদের মরিচ খেয়ে দেখিয়ে দিলেন। সেই থেকেই শুরু এভাবে মোবারকের প্রিয় খাবারের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে কাঁচামরিচ।
মোবারক আরো বলেন, আমি এখন পর্যন্ত একবসায় সর্বোচ্চ দুই কেজি মরিচ খেয়েছি। এর বেশিও পারব। কিন্তু কেউই সাহস করে দেয় না। প্রথম প্রথম খেতে দিত সবাই। এখন সবাই জানে, তাই আর কেউ খেতে দেয় না।
বাজারের সবজি বিক্রেতারা আগে বলত, যত পারেন খান। এখন দেয় না। আবার কোন বাড়িতে গিয়ে চাইলেও দেয় না। আমার তো মরিচ না খেলে ভাল লাগে না। তাই একদিন এক দোকানে গিয়ে বললাম, আপনার দোকানের মরিচ দেখেই মনে হচ্ছে ঝাল না। দোকানদার বললেন, ঝাল না তো একটা খেয়ে দেখেন। তখন আমি একের পর এক খেতে লাগলাম। একটু পর দোকানদার আর খেতে দিলেন না।
মোবারক মোল্লার স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, আমার বিয়ের আগে থেকেই শুনেছি মরিচ খেতে পারে। তখন বিশ্বাস করতাম না। বিয়ের পরে দেখলাম সত্যিই তাই। সবসময়ই মরিচ খায়।
এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ আনসিয়া পারভিন সুরভি বলেন, কাঁচামরিচে ক্যাপসাসিন নামে একটি পদার্থের উপস্থিতির জন্য ঝাল লাগে। মানুষের জিহ্বার প্রতি মিলিমিটারে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার স্বাদগ্রন্থি থাকে। এই স্বাদগ্রন্থির মাধ্যমে ক্যাপসাসিন ভেতরে ঢুকে ঝাল লাগে। কিন্তু জিহ্বায় স্বাদগ্রন্থি কম থাকলে ঝাল কম লাগবে। যেমন পাখিদের জিহ্বার প্রতি মিলিমিটারে মাত্র চারশ থেকে পাঁচশ স্বাদগ্রন্থি থাকে। তাই তাদের ঝাল লাগে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button