অপরাধশিরোনাম

২০ দিনে ২৩ বার ডায়ালাইসিস, মৃত্যুর ৫ দিন পর মৃত ঘোষণা

মাত্রাতিরিক্ত ডায়ালাইসিসে রোগির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজধানীর মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। কিডনিজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শহীদুল ইসলাম আগে মারা গেলেও ৫দিন পর হাসপাতাল তা স্বীকার করেছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
হাসপাতালের রেকর্ড বলছে, ২০ দিনে ২৩ বার ডায়ালাইসিস দেয়া হয়েছে কিডনি জটিলতায় মারা যাওয়া শহীদুল ইসলামের শরীরে। মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলের অভিযোগ, মুনাফার লোভে উপর্যুপরি ডায়ালাইসিসেই প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা।
গত ১৪ মে কিডনিজনিত সমস্যা নিয়ে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব শহীদুল ইসলাম। ভর্তির তিন দিন পর বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করতে চাইলেই শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা বলে রোগীকে আইসিইউতে নিয়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর দফায় দফায় ডায়ালাইসিস বাবদ এক মাসেই বিল আসে দশ লক্ষাধিক টাকা। পরিবারের অভিযোগ, গেল সোমবার (১৭ জুন) থেকে রোগীর কোনো ধরনের মুভমেন্ট না থাকলেও শুক্রবার (২১ জুন) রাতে রোগীকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে বলেন, ‘আমার বাবাকে নিয়ে ১ মাস ৭ দিন ধরে উনারা অনেক নাটক এবং ব্যবসা করছে। ডাক্তারকে বললাম এই বয়সে বাবা এত ডায়ালাইসিস একসাথে নিতে পারবে?
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা তাদের জানায়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহীদুলের স্বজনরা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে মারা যাওয়ার কথা বলা হয় তাদের।
‘২০ দিনে ২৩টা ডায়ালাইসিস কীভাবে দেয়? আমরা কয়েকবার অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের রোগীকে ‌নিতে দেয়নি। আমার ধারণা, উনি ১৪ তারিখে মারা গেছেন। এরপরও তারা আমার বাবাকে নিয়ে ব্যবসা করেছে।’
তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশিষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘এই ধরণের রোগী একবার ভালো হয় আবার অসুস্থ হয়। উনার বাবাকে যতটুকু ট্রিটমেন্ট দেওয়া দরকার ততটুক ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে।’
আয়েশা মেমোরিয়াল হিসেবে পরিচিত হাসপাতালটির নতুন নাম ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এর আগেও পুরনো এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ পাওয়া যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button