উপমহাদেশশিরোনাম

ভারতে ঘরে ঢুকে মুসলিম পরিবারকে বেধড়ক মারধর (ভিডিও)

হোলির দিন বাড়ির বাইরে ক্রিকেট খেলার জের ধরে এক মুসলিম পরিবারকে লাঠি, হকিস্টিক, রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে উগ্রপন্থী একদল হিন্দু যুবক। হামলার সময় তাদের ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার হুমকিও দেয় দুর্বত্তরা।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে গুরগাঁওয়ের ভূপ সিংহ নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির।

ওই মুসলিম পরিবারের ওপর সন্ত্রাসীদের অত্যাচারের ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ জনের একটি দল এসে লোহার রড এবং হকি স্টিক দিয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বেধড়ক পেটাচ্ছে। এসময় তাদেরকে না পেটাতে অনুরোধ জানান পরিবারের নারী সদস্যরা।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হোলির দিন ভূপ সিংহ নগরে বাড়ির কাছে ক্রিকেট খেলছিলেন কয়েকজন মুসলিম যুবক। ওই সময় মদ্যপ অবস্থায় ৩০ থেকে ৪০ জন দুর্বৃত্ত আসে সেখানে। হোলির দিন কেন তারা ক্রিকেট খেলছেন, এই প্রশ্ন তুলে তাদের সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এই নিয়ে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি চলে দু’পক্ষের মধ্যে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গেলে তাদের মারধর করতে শুরু করে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশের কাছে দেয়া আক্রান্ত পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, ভয়ে-আতঙ্কে প্রত্যেকেই বাড়ির দিকে ছুটতে থাকেন। লাঠি, রড নিয়ে পিছু ধাওয়া করে দুর্বৃত্তরা।

এর পর তাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে তারা। প্রত্যেকের হাতেই লাঠি, রড ছিল। মাটিতে ফেলে সেগুলো দিয়েই বেধড়ক মারধর শুরু করে দেয়। পরিবারের বাকি সদস্যরা বাধা দিতে এলে তাদেরও হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।

মারধরের সময় দুষ্কৃতিকারীরা ‘পাকিস্তানে যা’ বলে হুমকি দিচ্ছিল বলে জানান তারা।

এদিকে, গুরগাঁও পুলিশ জানিয়েছে, এ হামলা পরিকল্পিত। ঘটনাস্থলে আমরা পৌঁছার পূর্বেই দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় গুরগাঁও পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকিদের খোঁজ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী হামলা ঘটনায় গোটা বিশ্ব স্তব্ধ। সে হামলার লাইভ ভিডিওচিত্র ফেসবুকে প্রকাশ করে উগ্রপন্থী হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্ট।

সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও মুসলমানদের নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ পেল।


 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button