বন্ধু মানে দুটি দেহ একটি প্রাণ। এমনটাই বলা হয়ে থাকে সাধারনত। যার সাথে মতের-পথের-চিন্তার মিল হয় মূলত তার সাথেই জমে ওঠে বন্ধুত্ব। তবে মতের ভিন্নতা থাকা সত্বেও হতে পারে ভালো বন্ধুত্ব। বিশেষ করে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিয়েতো বিশ্ব জুড়েই সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব বিরাজমান।
কিন্তু বন্ধু নির্বাচনে তরুণ তরুণীরা এই বিষয়টিকে খুব একটা আমলে নিচ্ছে না। রাজনৈতিক মত ভিন্নতা থাকলেও একে অপরের ভালো বন্ধু হয়ে উঠছেন।
কখনো তর্ক হচ্ছে কখনো বা বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকা সত্তেও বন্ধুরা একমত প্রকাশ করছেন। বিবিসির একটি জরিপে উঠে এসেছে বন্ধুত্বের এই সত্যতা। বিবিসি’র আন্তর্জাতিক ইপসোস মোরির জরিপ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী দশজনের মধ্যে মাত্র একজনই বলে থাকেন যে তাদের প্রায় বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধব তাদের মতো একই রাজনৈতিক মতাদর্শের। অর্থ্যাৎ বাকি নয়জন বন্ধু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের। কিন্তু তারাও বন্ধু।
অন্যদিকে অর্ধেকের বেশি মানুষ ভিন্ন মতের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে মনে করে যে, তাদের থেকে আলাদা অন্য মতাদর্শের মানুষের কথা শোনাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এটা যদিওবা তাদের মতের সম্পূর্ণ বিপরীত কিন্তু তারপরও সে কথা শোনা উচিত।
ইন্টারনেট সংযোগ সম্পন্ন ২৭টি দেশের প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালানো হয়। এই জরিপ চালানো হয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের ওপর। সেই জরিপে অধিকাংশই নিজেদের চাইতে ভিন্ন ধরণের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছে।
জরিপ করা দেশগুলোয় পাঁচজন উত্তরদাতাদের মধ্যে দুইজন বলেছেন যে, তাদের বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধব কয়েকটি ইস্যুতে তাদের মতোই মতাদর্শ ও বিশ্বাস ধারণ করে থাকে। বন্ধুদের মধ্যে জলবায়ু ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি মানুষ একমত পোষণ করে। ৪২ শতাংশ মানুষ এই বিষয়ে একমত। ধর্মের ইস্যুতে ৩৮ শতাংশ, অভিবাসন ইস্যুতে ৩৮ শতাংশ এবং নারীবাদ বিষয়ে ৩৭ শতাংশ বন্ধু একমত পোষণ করে একে অন্যের সাথে। তবে রাজনৈতিক মতভিন্নতার ইস্যুতে এর পরিমান অনেক হ্রাস পাবে।
ইপসোসের জরিপ করা ৮০% শতাংশের বেশি মানুষ তাদের সামাজিক চক্রে এই রাজনৈতিক বিভাজনের বিষয়টিকে ভালভাবে উপলব্ধি করে। এবং এই বিষয়টি ইতিবাচক বা ক্ষতিকারক কিনা সেটার প্রেক্ষিতে তারা আলাদা হয়ে যায়।
যে দেশগুলিতে জরিপ করা হয়েছে, ৪০% শতাংশেরও বেশি মানুষ মনে করেন, রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে এখনকার সমাজ গত দুই দশকের চাইতে অনেক বেশি বিপদের মধ্যে আছে। অথচ মাত্র ১৪% এর বিপরীত ভেবে থাকেন।




