রাজনীতি

দেশে চলছে একদলীয় ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন : বাম গণতান্ত্রিক জোট

বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বর্তমানে দেশে চলছে একদলীয় ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন। গত ৩০ ডিসেম্বর নজীরবিহীন ভোট ডাকাতির ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে মহাজোটের সরকার পুনরায় ক্ষমতা দখলে রেখে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন কায়েম করেছে। শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে মজুরি ও গ্রেড বৈষম্য নিরসনের দাবিতে আন্দোলন করায় হাজার হাজার শ্রমিকের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি এবং প্রায় ১১ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশ বক্তব্য রাখেন সাইফুল হক, জলি তালকুদার, জহিরুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আমনে আক্তার, তাসলিমা আক্তার ও হামিদুল হক। সমাবেশ সঞ্চলনা করেন নজরুল ইসলাম।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনে ভোট না হয়ে আগের রাতেই ৩০/৫০ ভাগ ভোট ব্যালট পেপারে সীল মেরে শুধু বাংলাদেশে নয় গোটা পৃথিবীতে ভোট জালিয়াতির নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। ফলে এই সরকারের জনগণের প্রতি কোন দায় নাই। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ভোট ডাকাতির সংসদ বাতিল করে সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দেয়া, ব্যর্থ ও অনুগত, ভোট ডাকাতির সহযোগী নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানান।
নেতৃবৃন্দ শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের ভোটাধিকারসহ গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার আদায়ে ব্যাপক সংগ্রামী ঐক্য গড়ে তোলা ও বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির উত্থানে কার্যকর আন্দোলনের আহ্বান জানান।
সমাবেশে নেতৃবন্দ বলেন, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ গার্মেন্টস শিল্পাঞ্চলে ন্যায্য মজুরি ও গ্রেড বৈষম্য দূর করার দাবিতে আন্দোলন করায় গাজীপুর সদর, সাভার, আশুলিয়া ও উত্তরা পূর্ব থানায় ৩৪টি মামলায় ৩৫০০ জনকে আসামী করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।
বিজিএমইএ অবশ্য স্বীকার করেছে ৫০০০ ছাঁটাই হয়েছে। নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে শ্রমিকদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি এবং গণহারে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান এবং হেলপার ছাড়া কাজ করতে হবে এমন অগণতান্ত্রিক শর্ত দেয়া বন্ধ করার দাবি জানান।
একই সাথে বৈষম্যমূলক মজুরি ও গ্রেড নির্ধারণের জন্য দায়ীদের শাস্তির দাবি করেন তারা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button