প্রবাসশিরোনাম

টরন্টো সিটি নির্বাচন : জয়ের আশা নিয়ে লড়ছেন তিন বাঙালি প্রার্থী

টরন্টো সিটি নির্বাচনকে ঘিরে বাঙালি কমিউনিটিতে উৎসব মূখর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মত কানাডাতেও বাঙালিদের অবস্থান জানান দিতে আগামী ২২ অক্টোবরের নির্বাচনে তিন বাঙালি প্রার্থী বিভিন্ন পদে নির্বাচন করছেন। এরা হলেন, মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার তোফাজ্জল হক, স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট (ওয়ার্ড-২০) কাউন্সিলর প্রার্থী মহসিন ভুঁইয়া, টরন্টো স্কুল বোর্ড ১৮ নং ওয়ার্ড এর ট্রাস্টি পদে প্রার্থী হয়েছেন ফেরদৌস বারী। তাদের নিয়ে বাঙালি কমিউনিটিসহ এশিয়ান কমিউনিটিগুলোতে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। ইতোমধ্যে তিনি প্রার্থীই তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সমর্থনে ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অগ্রিম ভোটেও অংশগ্রহণ করে ভোট প্রদান করছেন অনেকে। ভোট কেন্দ্রগুলোতে চলছে ভোট উৎসব।
সূত্রে জানা যায়, ১০ অক্টোবর ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রত্যেক ওয়ার্ডের নির্দিষ্ট ২টি জায়গায় সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এ ভোট গ্রহণ চলছে। ইতিমধ্যে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট (ওয়ার্ড-২০) কাউন্সিলর প্রার্থী মহসিন ভুঁইয়া ও টরন্টো স্কুল বোর্ড ১৮ নং ওয়ার্ড এর ট্রাস্টি পদে প্রার্থী ফেরদৌস বারীকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মেয়র পদে ব্যারিস্টার তোফাজ্জল হককে নিয়েও চলছে নানা সমিকরণ। ইতোমধ্যে মেয়র প্রার্থী তোফাজ্জল হকের সমর্থনে বাঙালি কমিউনিটি ছাড়াও অন্যান্য কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এগিয়ে আসছেন। বাঙালি কমিউনিটির শক্তিমত্তা মূলধারার রাজনীতিবিদের কাছে জানান দিতে জয়ের লক্ষ্যে ব্যারিস্টার তোফাজ্জলকে ভোট দিতে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন বাঙালি কমিউনিটির নেতারা। আহবান জানান বাঙালি এমপি ডলি বেগমসহ কমিউনিটির নেতারা।
জানা যায়, টরন্টো সিটি নির্বাচনে বর্তমান মেয়র জন টোরি সহ ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে বাঙালী প্রার্থী ব্যারিস্টার তফজ্জলও আছেন। টরন্টো সিটিতে প্রায় ১২ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে বাঙালি ভোটার রয়েছেন ৪৫ হাজার। এ ৪৫ হাজার ভোটের আশায় আছেন মেয়র প্রার্থী তোফাজ্জল হক। বাঙালী কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করে কানাডায় একমাত্র বাঙালি এমপিপি ডলি বেগমের উত্তরসূরী হতে চান তিনি।
এসব বিষয়ে মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার তোফাজ্জল পূর্বপশ্চিমকে বলেন, টরন্টো সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাঙালি কমিউনিটিতে ঐক্যের সুর বেজে উঠেছে। প্রতিদিন এশিয়াসহ বিভিন্ন মহাদেশের কমিউনিটির প্রতিনিধিরা আমাদের সমর্থন দিচ্ছেন। আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। ডলি বেগমকে নির্বাচিত করার আগে আমরা চিন্তা করতে পারেনি আমাদের জয় হবে। কিন্তু শেষমেষ আমাদের জয় হয়েছে। সিটি নির্বাচনেও আমাদের জয় হবে। কারণ আমরা বীরের জাতি। তারা যেখানে থাকুক না কেন কীভাবে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হয় তা জানে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ডলি বেগম এমপিপি। গত জুনের গড়া সেই ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি। আগামী ২২ অক্টোবর কানাডায় বাঙালিরা আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে আমি আশা রাখি। ইতোমধ্যে বাঙালি কমিউনিটির অসংখ্য ভোটারসহ অন্যান্য দেশের শুভাকাঙ্খী ভোটাররা আমাদের প্রতিনিয়তই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। অগ্রিম ভোটেও আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।
অন্যদিকে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট (ওয়ার্ড-২০) এর বাংলাদেশি কাউন্সিলর প্রার্থী মহসিন ভুঁইয়ার জয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ওয়ার্ডে ১ লক্ষ বিশ হাজার ভোটের মধ্যে ১২ হাজার বাঙালী ভোটার রয়েছেন। আরো ৪/৫ জন সক্রিয় কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। তবে অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে মহসিন ভুঁইয়ার অবস্থান ভাল।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী মহসিন ভুঁইয়া পূর্বপশ্চিমকে বলেন, ২০ নং ওয়ার্ডে অবস্থানরত এশিয়ানরা এক হয়েছে। এশিয়ার প্রতিটি দেশের কমিউনিটিরা প্রতিদিন অফিসে এসে যোগাযোগ করছেন। এছাড়াও এখানকার তরুণরা বেশ সমর্থন যোগাচ্ছেন। তাদের আগ্রহ দেখে আমিও অভিভূত। এডভান্স ভোটে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট (ওয়ার্ড-২০) এ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বাঙালী ভোটাররা। এতেই বুঝা যাচ্ছে ২২ অক্টোবর আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
তিনি আরো জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত পরিবারসহ আমি এ এলাকায় বসবাস করি। আমি ভালো করেই জানি স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের একজন হিসেবে আমরা কতটা উপেক্ষিত? কখনও কখনও মনে হয় আমরা যেনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের অধিবাসী। টরন্টো সিটির প্রতিটি এরিয়ায় সমানভাবে উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন ছিলো। দু:খজনক হলেও সত্যি সেটা হয়নি। আমরা ক্রমাগত অবহেলিত হয়েছি। তাই আগামী প্রজন্মের জন্য টরন্টো সিটিকে আরো বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন নাগরিকবান্ধব এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিনিধিত্ব। আমার প্রতিশ্রুতির মধ্যে বাস সার্ভিস বৃদ্ধি, রাস্তা, পার্ক, কমিউনিটি সেন্টার সংস্কার, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় সকল উন্নয়নে আমার অগ্রাধিকার থাকবে। স্কারবোরো সাউথওয়েস্টকে নিরাপদ এবং সেরা ওয়ার্ডে পরিণত করার লক্ষ্যে আমাকে ভোট দিয়ে আপনার প্রতিনিধি হয়ে কাজ করার সুযোগ দিন।
এদিকে টরন্টো সিটি নির্বাচনে এডভান্স ভোটে স্কুল বোর্ড ১৮ নং ওয়ার্ড এর ট্রাস্টি পদে একমাত্র বাঙালী প্রার্থী ফেরদৌস বারী এগিয়ে আছেন। বাঙালী কমিউনিটিসহ আরো ১২টি কমিউনিটির প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে এডভান্স ভোটে এগিয়ে আছেন তিনি। তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিদিন যোগ দিচ্ছে নতুন নতুন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। টরন্টো স্কুল বোর্ড এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি নিয়ে তার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনায় মুগ্ধ হয়েছেন ১৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন দেশের বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিকরা। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, চীন, পিলিপাইন, নেপাল, এরাবিয়ান দেশসমূহ, ক্যারেবিয়ান কমিউনিটি, ইথূপিয়া, সসউগান্ডাসহ স্থানীয় কানাডিয়ানরাও তাকে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে এসস কমিউনিটির নেতারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে সমর্থন দিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে পূর্বপশ্চিমকে ফেরদৌস বারী বলেন, টরন্টো সিটির ১৮ নং ওয়ার্ডে শিক্ষা বিস্তারে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। তবে এলাকাটি অনেকটা পিছিয়ে। কারণ এখানকার ট্রাস্টী বোর্ডের সদস্যরা অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে তেমন কাজ করেননি। তাই আমি নির্বাচিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খল ফিরিয়ে আনবো। তিনি বলেন, এ ওয়ার্ডের সকল কমিউনিটির প্রতিনিধিরা আমাকে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে আসছেন। তাদের সমর্থন নিয়ে আমি নির্বাচনরে জয়ী হব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button