বিবিধশিরোনাম

মেগানকে নিয়ে যা করলেন হ্যারি

রাজপরিবারে রাজধর্মই বোধহয় শেষ কথা। তাই ‘প্রথা ভাঙার বিয়ে’র পরও সেই রাজধর্ম পালনের জন্যই মধুচন্দ্রিমায় যাওয়া পিছিয়ে দিলেন প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেল। ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব সাসেক্স। যাদের রাজকীয় বিয়েতে শনিবার মাতোয়ারা ছিল গোটা ব্রিটেন।
শনিবার মধ্যাহ্নভোজের পর উইন্ডসর ক্যাসলেই জমকালো পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল রাজপরিবারের তরফে। উদ্যোক্তা ছিলেন প্রিন্স চার্লস। জাগুয়ারে বসিয়ে নিজেই সেটি চালিয়ে মেগানকে নিয়ে হ্যারি আসেন ওই পার্টিতে। ১৯৬০ সালের সিলভার ব্লু ক্লাসিক জাগুয়ার ই-টাইপ মডেলটিকে মডিফাই করে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার’স ইলেকট্রিক পাওয়ারড জাগুয়ার ই-টাইপ কনসেপ্ট জিরোতে পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিয়ের তারিখ অনুসারে বিশেষ রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘ই১৯০৫১৮’ সম্বলিত এই গাড়িতে চড়ে ডিউক অ্যান্ড ডাচেস অব সাসেক্স আসেন যুবরাজ চার্লসের দেয়া ওই পার্টিতে। মেগানের পরনে ম্যাককার্টনির হল্টারনেক আর হ্যারির মিলিটারি ফ্রককোটের উপরে ব্ল্যাক টাই। খুব ঘনিষ্ঠ ২০০ জন নিমন্ত্রিত ছিলেন এতে। এর মধ্যে ছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস, জর্জ ক্লুনি। গোটা পার্টিতে একে অপরের হাত ধরে রেখেছিলেন হ্যারি ও মেগান। শেষের দিকে ছোটখাট বক্তব্যও রাখেন মেগান। একান্তে কথা বলেন প্রিন্স চার্লস এবং মেগানের মা ডোরিয়া রাডলান। পার্টি শেষ হতেই উইন্ডসর ক্যাসল থেকে আতসবাজির রোশনাই চাক্ষুষ করে গোটা শহর। শনিবার রাতটা উইন্ডসর ক্যাসলেই কাটান মেগান ও হ্যারি। রবিবার সকালে লন্ডনে কেনসিংটন প্যালেসে ফেরেন তারা।
তবে এখনই মধুচন্দ্রিমায় যেতে পারছেন না তাঁরা। কারণ, মঙ্গলবার বাকিংহাম প্যালেসে প্রিন্স চার্লস একটি গার্ডেন পার্টির আয়োজন করেছেন নব রাজদম্পতির জন্য। রাজপরিবারের রীতি অনুযায়ী, তাতে যোগ দিতে হয় নবদম্পতিকে। বিয়ের সময় একাধিক প্রথা ভাঙলেও, এই রীতি ভাঙতে চান না মেগান ও হ্যারি। কারণ, একটাই। এই পার্টির আয়োজক মেগানের শ্বশুর। মেগানের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায়, চার্লস নিজে সেই দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন কাঁধে। গাড়ি থেকে নামার পর তার হাত ধরেই হ্যারির কাছে পৌঁছেছেন মার্কেল। ফলে শ্বশুর-বউমার রসায়নটা যে বেশ মধুর, তা সহজেই অনুমেয়। সেই কারণেই মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার থেকে শ্বশুরের দেওয়া পার্টিতেই যাওয়াকেই বেছে নিয়েছেন তারা।
তবে রাজ কর্তব্য পালন করতে গিয়ে মানবিক কাজকর্ম যে তিনি উপেক্ষা করবেন না, তা বিয়ের দিনই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মেগান। মইনা মহিলা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের ভারতীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে আরও বেশি করে সময় দেবেন তিনি। বিশেষ করে মহিলাদের উন্নতিকল্পে যারা কাজ করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button