অপরাধশিরোনাম

বাংলাদেশের যশোরে উদ্ধার করা জেব্রাগুলো কোথা থেকে, কিভাবে এলো?

বাংলাদেশের যশোর জেলায় মঙ্গলবার রাতে নয়টি জেব্রা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন জেলার যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের সাতমাইল পশু-হাট সংলগ্ন এলাকা থেকে গতকাল রাত এগারোটার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জেব্রাগুলোকে উদ্ধার করে। ।
উদ্ধার করা নয়টি জেব্রার মধ্যে একটি জেব্রা মারা গেছে। বন কর্মকর্তারা ধারণা করছে দেশের বাইরে থেকে আনার পথে ক্লান্তির কারণে একটি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসব জেব্রা আনা হয়েছিল বলে তাদের জোর সন্দেহ। এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
যশোরের গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো: মুনিরুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “এগুলো ঢাকা থেকে এসেছে। বড় লোহার খাঁচায় করে ট্রাকে সেগুলোকে আনা হয়। গ্রামের একটি খাটালের ভেতরে সেগুলো রাখা হয়েছিল।কিন্তু ওই এলাকার আশেপাশের বাড়িঘরের লোকজন দেখে পুলিশে খবর দিলে রাতেই আমরা সেখানে যাই।”
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, রাতে সেখানেই রাখা হয় জেব্রাগুলো।
“এ ধরনের প্রাণী হ্যান্ডেল করে আমরা অভ্যস্ত না। তাছাড়া খাঁচাও অনেক ভারী। ফলে সকাল বেলা খুলনা বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগে খবর দেয়া হয়,” বলেন ওসি মুনিরুজ্জামান।
তিনি আরও জানান, ওই এলাকাতে এর আগে সিংহ শাবক এবং বাঘও উদ্ধার করা হয়েছিল। সেগুলো ঢাকা থেকে পরিবহন করে আনা হয়েছিল ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে।
এই ঘটনার সাথেও একই গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
এদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব জেব্রা আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে।
যশোরের বন কর্মকর্তা সরোয়ার আলম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন “এগুলো অবশ্যই বাইরের দেশ থেকে এসেছে। কার্গো বিমান বা জাহাজ যোগে এসেছে মনে হচ্ছে। এগুলো আফ্রিকার জেব্রা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”

একটি জেব্রা মারা যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বন কর্মকর্তা মি: খান বলেন, সাধারণত দুটি কারণে এসব জেব্রার মৃত্যু হতে পারে। যদি কোনও রোগ থাকে অথবা জার্নি শক বা ভ্রমণ ক্লান্তির কারণে মারা যেয়ে থাকতে পারে।
জেব্রাগুলোকে কী করা হবে এখন?
বাংলাদেশে এভাবে জেব্রা উদ্ধারের খবর এর আগে শোনা যায়নি বলেও তিনি জানান। দেশে এধরনের প্রাণীর খামার নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
“আমার জানা মতে বাংলাদেশে জেব্রার কোনও খামার গড়ে ওঠেনি। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এখন কোর্টে মামলা হবে। আদালত এরপর বন বিভাগের জিম্মায় দিলে জেব্রাগুলো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়া খানায় পাঠানো হবে।”
জার্নি শক বা ভ্রমণ ক্লান্তি থাকায় জেব্রাগুলোর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন এই বন কর্মকর্তা মি: খান।
তিনি বলেন, পানি ও ঘাস দিয়ে এগুলোকে চাঙ্গা রাখা হচ্ছে। সেইসাথে ফ্যানের বাতাস দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। ‌প্রাণীগুলো খুব ক্লান্ত, বিশেষ যত্ন দরকার নাহলে আরও মারা যেতে পারে।
মাঝারি আকৃতির এসব জেব্রা ‘সাব-অ্যাডাল্ট’ বলে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থাৎ এগুলো আরও বড় হবে।
এধরনে একেকটি জেব্রার মূল্য দশ লাখ টাকার কম হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button