চীনা সাংবাদিকের ভ্রুকুটি ভাইরাল

লিয়াং শিয়াংজি। চীন দেশে আপাতত ইন্টারনেটে এই নামটা সার্চ করলে কিচ্ছু বেরোবে না। কারণ, খোদ চীন সরকারই নিষেধাজ্ঞা বসিয়েছে তাতে।
লিয়াং কোনো কেউকেটা নন। তিনি চীনেরই এক সাংবাদিক। গত মঙ্গলবার চীনা পার্লামেন্টে খবর সংগ্রহের সময়ে তার ভুরু কোঁচকানো চাহনির ছবি ধরা পড়েছিল ক্যামেরায়। ক্রমশ তা এমন ভাইরাল হয় যে, সারা চীনে ইন্টারনেটে খোঁজ করা সর্বাধিক জনপ্রিয় শব্দ-তালিকার প্রথম দিকে উঠে যায় লিয়াংয়ের নাম। এমনকী প্রেসিডেন্ট শি জিনপিকেও ছাপিয়ে যান তিনি। এর পরই ইন্টারনেটের সার্চ বাটনে জারি হয় নিষেধাজ্ঞা।
ক’দিন আগে ভারতে ইন্টারনেটে তোলপাড় ফেলেছিল মালয়ালি ছবির অভিনেত্রী প্রিয়া প্রকাশ ভেরিয়ারের চোখের ইশারা।
কিন্তু লিয়াং বিরক্ত কেন? গল্পটা ছোট্ট। গত মঙ্গলবার চীনের জাতীয় আইনসভা ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’-এর বার্ষিক অধিবেশনে হাজির ছিলেন দেশ-বিদেশের সাংবাদিকেরা। সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করছিলেন মার্কিন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ঝ্যাং হুইজুন। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সাংহাইয়ের একটি অর্থনীতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি লিয়াং ও তার সহকর্মী। ঝ্যাংয়ের মুখে সরকারের স্তুতিমূলক প্রশ্ন শুনেই মুখের ভাব বদলে যায় তার। প্রথমে মনে হয় মজা পেয়েছেন। পরে বোঝা যায়, মাত্রা ছাড়ানো ‘আদিখ্যেতা’য় রীতিমতো বিরক্ত তিনি। এর পর ওই মার্কিন টিভি সাংবাদিক যখন চীনকে ‘আমাদের দেশ’ বলে উল্লেখ করেন, লিয়াংয়ের চোখের ভাষায় স্পষ্টই ফুটে উঠেছিল ব্যঙ্গ আর বিস্ময়।
পাশে দাঁড়ানো সহকর্মীর চোখে না পড়লেও নজর এড়ায়নি সংবাদমাধ্যমের। প্রায় ৪৪ সেকেন্ড ধরে চলা প্রশ্নোত্তর পর্বের ওই কয়েকটি মুহূর্ত এর পরই ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। লিয়াংয়ের মিম, কার্টুন, ভিডিও ক্লিপিংয়ে ভরে যায় নেটদুনিয়া। চলতে থাকে ইন্টারনেটে লাগাতার সার্চ।
চীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বার বার উঠেছে। বহু ক্ষেত্রে মিডিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে তোষণের। লিয়াংয়ের ‘ভ্রুকুটি’ সেই তোষণনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বলে মনে করছেন অনেকে।




