শিরোনাম

শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টিতে কমে যাচ্ছে প্রকৃতির অতিথিরা

এম মাঈন উদ্দিন
শীত বাড়ার সাথে সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারো বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি এসে আশ্রয় নিয়েছে মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় কেওড়া বন ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া প্রকল্পে। তবে শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টি ও পরিবেশ দূষণে এ জনপদে অতিথি পাখির আগমন কমছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শীতের আগমনী বার্তায় আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখিগুলোও। নানা প্রজাতির এসব পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হচ্ছে সমগ্র জনপদ। এক সময় পাখির অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছিল মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার বিশাল বিল আর জলাশয়। কিন্তু শিকারি ও মাছের প্রকল্পে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসা পাখির সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে ধারণা করছেন এলাকার লোকজন।
তারপরও অতিথি পাখির আগমন বন্ধ হয়নি মিরসরাইয়ের মহামায়া ইকোপার্ক ও লেকে। প্রায় ১১ বর্গকিলোমিটার লেক এখন পরিযায়ী পাখির দখলে। শীতের শুরুতে এগুলো এখানে আসতে শুরু করে। বর্তমানে পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হচ্ছে পুরো এলাকা। মহামায়ায় আগত পর্যটকেরাও এ দৃশ্য উপভোগ করছেন। অনেকে পাখির অবাধ বিচরণ আর ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো কিংবা দলবেঁধে পানিতে ভেসে চলার ছবি ধারণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ডিঙি নৌকায় চড়ে লেকের কাফতলি এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে এসব অতিথি পাখির। যারা ছবি তুলতে ব্যস্ত, তাদের ক্যামেরার কিক শব্দে পাখিগুলো ঝাঁক বেঁধে কিচিরমিচির করে উড়তে শুরু করে আকাশে। লেকের চারদিকে দেখা মেলে নানা প্রজাতির ছোট-বড় অসংখ্য পাখির।
মহামায়ায় ঘুরতে আসা পর্যটক ও পাখিপ্রেমী হোসাইন আজাদ বলেন, ‘আমি পাখিপ্রিয় মানুষ। একসময় বাসায় পাখি লালন-পালন করতাম। গত বছর শীতের সকালে পাখি দেখব বলে মহামায়ায় এসেছিলাম। কিন্তু সে সময় এমন ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির দেখা মেলেনি। এবার তাদের দলবেঁধে আকাশে উড়ে বেড়ানো আর কলকাকলি দেখে ভালো লেগেছে।’
লেকে চলা ডিঙি নৌকার মাঝি নিজাম উদ্দিন জানান, ‘মাঝে মাঝে বন্দুক নিয়ে অনেকে পাখি শিকারে আসে। ইদানীং শিকারিরা খুব একটা আসে না।’ স্থানীয় দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিপ্লব বলেন, ‘প্রতি বছর পাখির অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে মহামায়া। পর্যটকদের বেশ আকৃষ্ট করে এগুলো। পাখি গবেষকের সাথে যোগাযোগ করে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে এটিও হতে পারে পাখির বড় অভয়াশ্রম।’
এ দিকে একসময় শীত এলেই উপজেলার উপকূলীয় মুহুরী প্রকল্প থেকে শাহেরখালী অঞ্চল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার খাল-বিল আর জলাশয় নানা রঙ আর আকৃতির অতিথি পাখির কূজনে মুখরিত হতো। এখন কমতে শুরু করেছে এগুলোর আগমন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমানে গাংচিল আর লেন্জা ছাড়া আর কোনো প্রজাতির পাখি এখানে চোখে পড়ে না। তারা এ জন্য শিকারিদের শ্যেন দৃষ্টি আর মাছের প্রকল্পে পাখির জন্য ক্ষতিকারক কীটনাশক (বিষ) ব্যবহারকে দায়ী করেন।
মুহুরী প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা বশির আহম্মদ জানান, এক সময় শীতের শুরুতেই দলে দলে অতিথি পাখির আগমন ঘটত এ প্রকল্প এলাকায়। বিকেল বেলায় পাখির কিচিরমিচির শব্দে এখানকার গ্রামগুলো মুখরিত হয়ে উঠত। কিন্তু এখন তা কমে এসেছে।
মিরসরাইয়ের উপকূলীয় ভারপ্রাপ্ত বন রেঞ্জ কর্মকর্তা এরফানুল হক জানান, বিভিন্ন সময় আমরা পাখি ধরা কিংবা শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। এখনো আমরা সজাগ রয়েছি। কেউ আমাদের এমন অপরাধের তথ্য দিলে আমরা তাৎণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button