শিক্ষা

ফ্রান্সে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

শিশুদের হাতে কেন মোবাইল? এ বয়সেই যদি ওরা শিশুসুলভ কর্মকাণ্ড ভুলে প্রযুক্তি নিয়ে পড়ে থাকে তাদের মানসিক বিকাশ হবে কিভাবে? উত্তর খুঁজতে আলোচনায় সময় নষ্ট না করে পদক্ষেপ গ্রহণকেই জরুরি মনে করল ফ্রান্স। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলে শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করছে দেশটির সরকার।
ফলে দেশটির প্রাইমারি, জুনিয়র ও মিডল স্কুলগুলোতে কোনো শিার্থী মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। অবশ্য শিশুরা স্কুলে মোবাইল আনতে পারবে। কিন্তু এটা নিয়ে কাস করা বা বিরতির সময় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে না। স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ই যার যার মোবাইল ফিরে পাবে তারা।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী জিন মাইকেল ব্লানকুয়ের জানান, আগামী বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে দেশজুড়ে। স্কুলের ছয় বছর থেকে ১৫ বছর বয়সী সব শিার্থী এ নিয়মের আওতায় পড়বে। কিছু শিাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ এনেছে।
মন্ত্রী বলেন, অনেক সময়ই জরুরি মুহূর্তে শিক্ষা প্রদানের কাজেও মোবাইল দরকার হয়। কিন্তু শিার্থীদের ব্যবহারের বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আনা হবে। নিয়মটি চালু হলে শিার্থীরা স্কুলে আসামাত্র মোবাইল ফোন কর্তৃপরে কাছে জমা দেবে। তারপর যখন স্কুল শেষে বেরিয়ে যাবে, তখন নিজের ফোনটি পেয়ে যাবে।
বর্তমানে অনেক স্কুলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ হলেও কাসের ফাঁকে, বিরতি বা টিফিনের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারে শিার্থীরা। কিন্তু এতে পড়ালেখায় তাদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে বলেই মনে করেন শিকেরা। এমনকি সুযোগ পেলে কাসের মধ্যেই তারা ফোন বের করে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মোবাইলের কারণে বিরতির সময় শিশুরা মাঠে খেলতে যায় না।
সবাই মোবাইলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে তাদের শৈশবের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সব শিকের একই মত। মন্ত্রী আরো বলেন, এ সিদ্ধান্ত আসলে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিভাবকদের জন্য সচেতনতার বার্তা। এ বয়সীদের কাছে সব সময় মোবাইল ফোন থাকা উচিত নয়। অন্তত সাত বছরের আগে কোনো শিশুর হাতে প্রযুক্তির পর্দা যেন না আসে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সূত্র : গার্ডিয়ান

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button