আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাল আলোচনা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আগামীকাল ব্রিফিং শেষে আলোচনা হবে। এতে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের একজন বিশেষ দূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়া যৌন সহিংসতাবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেন রোহিঙ্গা নারীদের ওপর মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়াবহ যৌন সহিংসতার তথ্য তুলে ধরবেন।
গত ৬ নভেম্বর জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক প্রেসিডেন্টশিয়াল বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে আন্ত:সম্প্রদায় সহিংসতা ও সামরিক বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ বন্ধ করে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সাথে আলোচনার অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া ৩০ দিন পর মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি দেয়ার জন্য জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই আগামীকাল মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক সময় দুপুরে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টশিয়াল বিৃবতির পর জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটি এবং মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। দু’টি ক্ষেত্রেই প্রস্তাবগুলো বিপুল ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। তবে চীন এসব প্রস্তাবগুলোর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। আর ভারত ভোটদানে বিরত ছিল।
মিয়ানমার ইস্যুতে এর আগে বেশ কয়েকবার নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, উন্মুক্ত বিতর্ক ও সর্বশেষ প্রেসিডেন্টশিয়াল বিবৃতি দেয়া হয়েছে। তবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব গ্রহণের সরাসরি বিরোধীতা করছে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী চীন ও রাশিয়া। তারা ইস্যুটি মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানের জন্য বাংলাদেশকে তাগাদা দিচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। এই এমওইউ বাস্তবায়নের জন্য একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া এমওইউ সইয়ের দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারেও দুই দেশ একমত হয়েছে। রোহিঙ্গা যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে এবং মিয়ানমার প্রয়োজন হলে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সহায়তা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বচ্ছতার জন্যই বাংলাদেশ ইউএনএইচসিআরকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত রাখতে চায়।
অতীত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ কার্যকর করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখার পক্ষপাতি। এ কারণেই এমওইউ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও আন্তর্জাতিক ফোরামে সরকার সক্রিয় রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘের ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি হাইকমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। সহিংসতা ও মানসিক আঘাতের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা এখনো বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। এসব শরণার্থীর অনেকেই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছে। তাদের অনেকেরই বাড়ি-ঘর ও গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। ফিরে যাওয়ার মত কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
তিনি বলেন, রাখাইনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ নিরসনে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোতে মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আগে এ সব বিষয় সমাধান হওয়া প্রয়োজন। রাখাইন রাজ্য রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ কিনা তা নিরুপনের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোতে প্রবেশাধিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সুত্র : নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button