মিয়ানমারে সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বাধ্য করা হয় পোপকে

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আকস্মিক বৈঠক করতে বাধ্য করা হয়েছে খ্রিস্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার প্রধান ধর্ম গুরু পোপ ফ্রান্সিসকে। ভ্যাটিকানের সরকারি প্রকাশনা ক্রাক্সনাও এর এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। ভ্যাটিকান প্রতিবেদকের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের কার্ডিনাল চার্লস মং বো’র নির্দেশনা মেনেই পোপ শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সফরের প্রথমদিন সোমবার আকস্মিকভাবে অনির্ধারিত বৈঠকে মিলিত হন। মিয়ানমারের কার্ডিনাল নিজেও এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এদিকে মিয়ানমারে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা নাম ও তাদের নির্যাতনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন পোপ। তবে সার্বিকভাবে তিনি সকল সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার আহবান জানিয়েছেন। মিয়ানমার সফররত পোপ ফ্রান্সিস গতকাল মঙ্গলবার সেদেশের প্রেসিডেন্ট নি কিয়াও এবং স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি’র সঙ্গে বৈঠক করেন।
দীর্ঘ ভ্রমণের পর মিয়ানমার সফরের প্রথম দিন সোমবার বিশ্রামের জন্য পোপ ফ্রান্সিস কোনো কর্মসূচি রাখেননি। আর মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিং-এর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সফরের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর। তবে প্রথমদিনই ইয়াঙ্গুনে আর্চ বিশপের বাসভবনে পোপের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। জেনারেল মিং অনের অফিশিয়াল ফেসবুক পোস্ট এবং ভ্যাটিকান মুখপত্র ক্রাক্স-এর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, বিশেষ অভিযান ব্যুরোর তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ছিলেন ওই বৈঠকে। শীর্ষস্থানীয় এই সামরিক কর্মকর্তাদেরই রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন এবং ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে দেশছাড়া করার মূল হোতা বলে মনে করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গুনে পৌঁছানোর পর কার্ডিনাল চার্লস মং বো পোপকে শীর্ষ সেনা-কর্মকর্তা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশনা দেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিয়ানমারের কার্ডিনাল পোপকে বৈঠকের তাগিদ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, পোপ এই নির্দেশনা না মানলে মিয়ানমারের খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো।




