শিরোনাম

কেটে ফেলা হলো কালের স্বাক্ষী শতবর্ষী বটগাছ

‘ঝুঁকিপূর্ণ বৃক্ষ’ এই দোহাই দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালের স্বাক্ষী বট বৃক্ষ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বিজড়িত শতবর্ষী বিশালাকৃতির বটবৃক্ষটি কেটে ফেলায় উপজেলা শহর জুড়ে তোলপাড় চলছে।
সোমবার দুপুরে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ রোডের রেলক্রসিং সংলগ্ন বটবৃক্ষটির বেশীরভাগ অংশই কেটে ফেলা হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটির অবশিষ্ট অংশ রক্ষা করেন। নাসির নামের জনৈক ঠিকাদারকে এই গাছগুলোর কাটার টেন্ডার দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, রাস্তার পাশে অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোকে চিহ্নিত করে এর তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদনের পর সেগুলো কাটার প্রক্রিয়া শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক কাওসার ইকবাল বলেন, এই গাছগুলো এই শহরের অতীত ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। স্মৃতিবিজড়িত এই বটগাছ আমাদের ঐতিহ্য। কোনো ক্রমেই তা কাটা উচিত হয়নি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলোকে চিহ্নিত করার কাজ আরো আগেই হাতে নেয়া হয়েছে। এই গাছগুলো প্রকৃতপক্ষেই ঝুঁকিপূর্ণ কি-না, বা এখানকার ইতিহাস-ঐতিহ্য’র স্বাক্ষ্য বহন করে কি-না তা আমি বলতে পারবো না। যদি এগুলো ঐতিহ্যবাহী হয়, তাহলে এগুলোকে কাটার জন্য চিহ্নিত না করাই উচিত ছিল।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে কর্তৃপক্ষ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এবং শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যের নিদর্শন স্টেশন রোডের বিশালাকৃতির শিশির গাছটিও কেটে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রীমঙ্গলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতি বিজড়িত এসব গাছ কাটার সংবাদে উপজেলা শহর জুড়ে তোলপাড় চলছে।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনা করেছেন। এর মধ্যে অপু লিখেছেন, ‘যখন শেষ গাছটি কেটে ফেলা হবে, শেষ নদীটি বিষাক্ত হয়ে পড়বে, যখন শেষ মাছটিও মরে যাবে, তখনই কেবল আমরা উপলব্ধি করবো- আমরা টাকা খেয়ে বাঁচতে পারি না!’
তিনি আরো লিখেছেন, যুগের পর যুগ ধরে মানুষকে ছায়া দিয়েছে, দিয়েছে অক্সিজেন। পাখিগুলোর নিরাপদ আবাস ছিলো গাছগুলো ! পথিকের চোখ মন শীতল করেছে নাজানি কত যুগ ধরে! এইতো ৩/৪ দিন আগেও দাঁড়িয়ে ছিলো সগৌরবে। আজ শুয়ে আছে পিচ ঢালা পথের ধারে! হত্যা করা হচ্ছে আমাদের বন্ধুদের, এক এক করে ! যে বন্ধুরা এখনো দাঁড়িয়ে আছে তাদের গায়েও হত্যার তালিকা টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে; ১-২-৩-৪—–১০০ ! গাছের গায়ে লাল কালি দিয়ে লিখে তাদের বলে দেওয়া হয়েছে, তোমার নাম্বার ৬৮ ! আর আমরা কেবল চেয়ে চেয়ে দেখি ! সারা শ্রীমঙ্গল জুড়ে এই হত্যার উৎসব শুরু হয়েছে ইদানিং ! আমি ভাবি, এই ৩ টাকার বিনিময়ে ১০ মেগাবাইট পাওয়া সদ্য আধুনিক হওয়া প্রজন্ম দিয়ে আসলে আমাদের কী লাভ হবে ! রাস্তায় না নামুক, যদি সবাই ১০ কিলোবাইট খরচ করে এ প্রতিবাদ জানাতো তাহলেও কি এই হত্যাযাজ্ঞ চালানো যেতো ! কখনো না!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button