প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

অবৈধভাবে মোটরসাইকেল আমদানি
অবৈধভাবে আমদানি করা মোটরসাইকেলের বাজার বড় হচ্ছে। অবৈধভাবে আমদানি করা এসব মোটরসাইকেল কিনে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা অন্যদিকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সম্প্রতি অবৈধ মোটরসাইকেলের এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবমতে, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থ বছরে আড়াই লাখ করে মোটরসাইকেল আমদানি হত। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা প্রায় ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলারস এন্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএএমএ) তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে বিপণনকৃত মোটরসাইকেলের প্রায় ৮৬ শতাংশই আমদানিকৃত। ১৪ শতাংশ বাজার দখলে দেশীয় দুটি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন এবং রানারের। আমদানি মোটরসাইকেলের বাজারে অবৈধ আমদানিকারকদের জন্য বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিএমএএমএ এর কোষাধ্যক্ষ ও টিভিএস মোটরসাইকেলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেডের হেড অব অপারেশন বিপ্লব কুমার রয় বলেন, বৈধ আমদানিকারকদের সঠিক মূল্য প্রদর্শন করে দেড়শ’ শতাংশের বেশি শুল্ক দিয়ে মোটরসাইকেল আমদানি করতে হয়। কিন্তু অবৈধ আমদানিকারকরা কম মূল্য দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে অন্যদিকে ভোক্তাদের প্রতারিত করছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধভাবে আমদানিকৃত এসব মোটরসাইকেল কম দাম দেখিয়ে রাজস্ব কম দিচ্ছে। আবার প্রচলিত মডেল না হবার কারণে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। প্রথমত, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে মোটরসাইকেলটি। অন্যদিকে সার্ভিস নেওয়ার সময় সঠিক সময়ে সঠিক সার্ভিসটি পাচ্ছে না। এমনকি প্রচলিত মডেল না হবার কারণে সঠিক যন্ত্রাংশও পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, আমদানিকৃত মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রি করতে হলে বিল আব এন্ট্রি, অ্যাসেসমেন্টে নোটিশ, গেট পাশ, সিকেডি অনুমোদন, কমার্সিয়াল অনুমোদন ও এলসি কপি সংযুক্ত করতে হয়। ব্যক্তি মালিকানাধীন হলে এর পাশাপাশি ভোটার আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ঠিকানা প্রমানের জন্য বিদ্যুত্ অথবা গ্যাস বিলের কপি দিতে হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল কবীর বলেন, সঠিক নিবন্ধন ছাড়া কোন মোটরসাইকেল রাস্তায় চলাটা বেআইনি।
ইত্তেফাক




