রাজনীতিশিরোনাম

সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে : বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই দেশে আর কোনো হাসিনা মার্কা নির্বাচন হবে না। এ ধরনের নির্বাচন চলে না। তবে শেখ হাসিনাকেও আমরা নির্বাচনে চাই। সেটা হতে নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে।
আজ শনিবার রাজধানীতে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
একইসাথে সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঈদের পরে জনগণকে নিয়ে কর্মসূচি দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সকলকে প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
রাজধানীর পূর্বানী হোটেলে রাজনীতিবিদদের সম্মানে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, লুটেরাদের রুখার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা মনে করি, রোজার ঈদ শেষ হয়ে গেলে জনগণ আরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে, এই জুলুম-অত্যাচার-অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের এক সাথে মিলে রাস্তায় জনগণের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে হবে। সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারলে এদেশের জনগণ শরিক হবে। আমরা বলব- সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন। আমাদের ২০ দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আমরা প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এদেশে একটা অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। যে নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনে হবে। হাসিনা মার্কা নির্বাচন এদেশে আর চলবে না। এদেশের কোনো মানুষ হাসিনার অধীনে নির্বাচন চায় না।
সংসদে জাতীয় পার্টির এক নারী এমপির বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, শুক্রবার দেখলাম খবরের কাগজে বেরিয়েছে, আওয়ামী লীগের মহিলারা বলেছেন, আমরা নির্বাচন চাই না, আমরা হাসিনাকে ক্ষমতায় চাই। কত আবদার দেখেন- কী রকম অবস্থায় তারা নিয়ে যেতে চায়।
এ ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বেগম জিয়া বলেন, আমরা হাসিনাকেও চাই, কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমে হতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাদের চাইবে তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে।
দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিনিয়ত দেশের অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। গরীব মানুষ দুই বেলা পেট ভরে খেতেও পায় না। এরমধ্যে গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। চাল-ডাল-তেল-লবন-সবজি সব কিছুর দাম জনগণের ক্রয় ক্ষমতায় বাইরে চলে গেছে। মানুষ একটু শান্তিতে বাঁচার মতো অবস্থাতে নেই। জনগণ চায় দেশের শান্তি, দেশের অগ্রগতি। কিন্তু বাংলাদেশে মানুষের অগ্রগতি নেই, আছে শুধু একটা দলের উন্নতি, তাদের কোনো কিছু সমস্যা নাই, তারা মহা আনন্দে আছে। তারা এভাবেই থাকতে চায়। সেজন্য স্বাভাবিকভাবে মানুষ অস্থির হয়ে পড়েছে। রোজার পরে জনগণ নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, এই বাজেট গরীব মারার বাজেট। এই বাজেটে আরো নতুন নতুন কর বসানো হয়েছে, ভ্যাটের পরিধি বাড়ানো হয়েছে, আবার নতুন করে শুল্ক বসানো হয়েছে ব্যাংকে যে টাকার রাখবেন তার ওপর। এক লাখ টাকা থেকে তারা ৮’শ টাকা কেটে নেবে। আর তাদের বেলা নেই। কারণ তাদের টাকা তো দেশে নেই। তারা কি বুঝবে?
জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, এখন সকলের উচিৎ ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা। এই অবস্থায় কি দেশ চলবে? আমরা শুধু হায় হুতাশ করবো, আমরা কী না খেয়ে মরবো। আজকে পুলিশও অত্যচারিত হচ্ছে, আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ব্যাপকভাবে অত্যাচার করছে। পুলিশ-আনসার-বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনী যারা আছেন, তাদের সকলের চিন্তা করা উচিৎ- এই দেশ কি আমাদের সবারর সামনে শেষ হয়ে যাবে? আর একটা শ্রেণি দেশটাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাবে নিজেরা ফুলে ফেঁপে বড় হয়ে। তাদের ব্যবহার করে তারা দেশ চালাতে থাকবে আর সাধারণ গরীব থেকে গরীব হবে, ধ্বংস হবে। স্কুল- বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা দেখুন লেখাপড়া হয় না, দলীয়করণ চলছে। এভাবে চললে দেশ ধবংস হয়ে যাবে।
সব শ্রেণির মানুষকে দেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, মানুষকে আজ এগিয়ে আসতে হবে। জালেমদের হাত থেকে দেশটাকে রক্ষা করে, এই লুটেরাদের হাত থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে হবে যারা দেশের কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে। এখনোও যা আছে সেটাও লুটে নেয়ার ব্যবস্থা করছে। তারা মনে করছে, এবারই শেষ সময় যত পারো লুটে নাও। সেজন্য তারা লুটে ব্যস্ত। লুটেরাদের রুখার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, অন্যান্য বাহিনী যারা আওয়ামী লীগ দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছে, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হবেন জনগণের পেছনে, আমাদের পেছনে। তাদের পরিবার পরিজন আছে, তাদেরও বন্ধু-বান্ধব আছেন। তারা হয়ত চাকরি করে বলে একটু ভালো থাকতে পারে, বন্ধু-বান্ধব যখন পায় তাদেরকে বলতে ছাড়ে না- কী অবস্থায় কী কষ্টের মধ্যে তারা আছে। সবাই কিন্তু প্রস্তুত হয়ে আছে। কাউকে না কাউকে এগিয়ে যেতে হবে। স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব বিএনপি নিতে কখনো ভয় পায় না, ইনশাল্লাহ ভয় পাবোও না।
ইফতারে এনপিপির আরো উপস্থিত ছিলেন- মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জহির হোসেন হাকিম, অহিদুর রহমান, বেলাল আহমেদ, মো: ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।
বিশ দলের নেতাদের মধ্যে এলডিপির ড. কর্নেল অলি আহমেদ, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ ভাসানীর অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাগপার অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দীন ইকরাম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিঙ্কন, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, বিজেপির আবদুল মতিন সউদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ইসলামিক পার্টির এজাজ হোসেন, খেলাফত মজলিশের মাওলানা আহমেদ আলী কাশেমী, শামীম বিন সাঈদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, আবদুস সালাম, তৈমুর আলম খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, মিসেস আফরোজা আব্বাস, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button