sliderরাজনীতিশিরোনাম

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি এবি পার্টির

পতাকা ডেস্ক: গাজীপুরে সড়ক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গাজীপুর জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশটি মহানগর সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানার সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয়
ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদক সুলতানা রাজিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার নোমান বলেন, গাজীপুরে এক মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের? সড়কে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিতে হবে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ জেলা-ভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর টঙ্গী স্টেশন রোডের কাছে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় আয়েশা খাতুন ও তাঁর ছেলে ইয়াসিন নিহত হন। একই দিনে কোনাবাড়ীতে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান রেকা রানি সূত্রধর।
এসব ঘটনার উল্লেখ করে ব্যারিস্টার নোমান প্রশ্ন তোলেন, মানুষ যদি ফুটপাতে দাঁড়িয়েও নিরাপদ না থাকে, তাহলে আমাদের সড়ক ব্যবস্থার অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?
তিনি বলেন, গাজীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে জীবিকার প্রয়োজনে সড়কে চলাচল করতে হয়। অথচ নিরাপদ ফুটপাতের অভাব, ফুটপাত দখল, অপর্যাপ্ত পারাপারের ব্যবস্থা, বেপরোয়া গতি, ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং দুর্বল তদারকির কারণে সড়ক ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। দুর্ঘটনার পর মামলা বা ক্ষতিপূরণই যথেষ্ট নয়, প্রাণহানি ঠেকাতে দুর্ঘটনার আগেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে গাজীপুরের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের নকশা ও অবকাঠামো সংস্কার, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নিরাপদ জেব্রা ক্রসিং ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা এবং গতিসীমা কার্যকর করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাই, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যারিস্টার নোমান বলেন, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা, গৃহীত পদক্ষেপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সংস্কারের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এবি পার্টি নিরাপদ সড়ক, নিয়মিত তদারকি, কার্যকর দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
সমাবেশে দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মোঃ সামিউল ইসলাম, গাজীপুর মহানগরের যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ মইনুল ইসলাম সরকার ও কেন্দ্রীয় সদস্য ডাক্তার আশরাফুল আলম
এ সময় গাজীপুর জেলা ও মহানগর এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা ও মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জুয়েল মোল্লা,মোঃ রাজিব হাসান খান সেতু,মোঃ শামীম মন্ডল,মোঃ হারুন হাওলাদার, এবি শ্রমিক পার্টির মোহাম্মদ রওশন আলী, মোঃ মনির হোসেন, মোহাম্মদ বাবুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button