বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের চাপে না জেহাল ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভা। এ পৌরসভাটি এ গ্রেটের।
মোট ৪৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পৌর সভায় কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও বাকি ১৮ জনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কাজ না করেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা বেতন-ভাতা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সচল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকলেও পাম্প চালক, বছরে দু-একবার রোলার ব্যবহার হলেও একাধিক রোলার চালকসহ বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় পদে জনবল বহাল রাখায় পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা ভেঙে পড়ছে দিন দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে বোয়ালমারী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর প্রায় দুই দশক প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল দিয়েই এর কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে ২০২২ সালে একযোগে ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই নিয়োগের পর থেকেই পৌরসভার জনবল ও ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।
সরেজমিনে ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদ যেমন- বাজার পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, কার্য সহকারী, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও ট্রাক চালক পদে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি জনবল রয়েছে। বর্তমানে পৌরসভায় কোনো সচল পানির পাম্প বা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। অথচ একজন পাম্প চালক ও একজন পাইপলাইন মেকানিক নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এমনকি পানি সরবরাহ না থাকলেও পানির বিল আদায়ের জন্য একজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে রোলার ও টিকাদান কার্যক্রমেও। বছরে মাত্র দু-একবার রোলার ব্যবহার করা হলেও দুজন চালক প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন তুলছেন। এছাড়া পৌরসভায় টিকাদানকারী পদে দুজন এবং সুপারভাইজার পদে একজন কর্মরত থাকলেও পৌরবাসী তাদের মাধ্যমে কোনো নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেখেননি।
স্থানীয় নাগরিকদের মতে, পৌরসভার নিজস্ব আয় সীমিত। এরপরও যদি সিংহভাগ অর্থ অলস জনবলের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়, তবে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো জরুরি নাগরিক সেবাগুলো অর্থ সংকটে পড়বে।
তবে কাজ না করে বেতন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সিকদার মনিরুজ্জামান। তার ভাষ্য, “পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট কাজ না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পৌরসভার অন্যান্য দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কেউ বসে বেতন নিচ্ছেন না।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক এস এম রকিবুল হাসান জানান, “নিয়মতান্ত্রিক পন্থায়ই শূন্য পদগুলোতে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিছু প্রকল্প রয়েছে যেগুলোতে আপাতত কাজ বন্ধ আছে। তবে কোনো কর্মচারীরই বসে বসে বেতন নেয়ার সুযোগ নেই। আমরা তাদের বিভিন্ন বিকল্প প্রকল্পে ব্যবহার করছি।