Uncategorized

ভাগ্য ফেরানো অষ্টধাতু আর অপচিকিৎসার রমরমা ব্যবসা

প্রতারিত হচ্ছে সাধারন মানুষ : দেখার কেউ নেই

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ॥ শনির দশা থেকে মুক্তি, ভাগ্র সুপ্রশন্ন করা কিংবা জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময়ের দাবি তুলে চলছে অষ্টধাতুর আংটির রমরমা ব্যবসা। ঘিওর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন হাট বাজার, কোর্ট চত্বর কিংবা জনবহূল স্থানে অষ্টধাতুর আংটি বেচাকেনার প্রায় অর্ধশত ভ্রাম্যমাণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক রেজেক আলী জানান, এ আংটির কারণে জাদুটোনা, বাণ, কুফরি-কালাম হতে রক্ষা পাওয়া যায়। অর্শ, গেজ কিংবা মহিলাদের গোপনীয় নানা জটিল রোগের অব্যর্থ সমাধান হিসেবে অষ্টধাতুর আংটি নাকি খুবই উপকারী। রেজেক আলীর লিফলেটে দেখা যায়, নীলা, গোমেদ, রুবী, পোখরাজ, পান্না ছাড়াও বিশ্বেও নামীদামি পাথর ও পাথর সংম্বলিত এসব আংটি বাজারে শুধু মাত্র কোম্পানীর প্রচারনায় কম টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ৫১ টাকা থেকে হাজার টাকায় বিক্রি করা কথিত অষ্টধাতুর আংটিতে সোনা, রুপা, পিতলসহ আট রকম পদার্থ থাকে বলে দাবি করা হয়। কিন্তু অষ্টধাতুর আংটির সাহায্যে রোগ নিরাময় লাভের কোনো যৌক্তিকতা মেলেনি, তবুও ধুমছে কেনাবেচা চলছে সর্বত্র। অসচেতন মানুষজনকে ধোকা দিয়ে জমজমাট এসব অপচিকিৎসা বাণিজ্য অনায়াসে করলেও দেখার যেন কেউ নেই।
এছাড়াও বিভিন্ন হাটবাজারে কথিত ডাক্তার, কবিরাজ, আধ্যাতিœক ও হারবাল চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আর তােেদর কথার ফাদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, আসর বসিয়ে হাতুড়ে কবিরাজেরা চটকদার কথায় পেটের ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, বাত, আমাশয়, ডায়াবেটিস, সর্দি-কাশি, অ্যাজমা, যৌন রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগ নিরাময়ের শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে ওষুধ বিক্রি করছেন। গ্রাম এলাকার সহজ-সরল লোকজন তাঁদের মনভোলানো কথায় বিশ্বাস করে ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
বানিয়াজুরী গ্রামের সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি দুই মাস আগে বরংগাইল হাটে এক কবিরাজের কাছ থেকে ৩৫০ টাকা দিয়ে যৌন রোগের (ফুল কোর্স) ওষুধ কেনেন। ওই ওষুধ সেবনের পর থেকেই তার অসুখ নিরাময় তো দূরের কথা উল্টো শরীরের বিভিন্ন ফোস্কার মতো পরে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি একটি বেসরকারী হাসপাতালে দুই সপ্তাহ ভর্তি থেকে সুস্থ হন। এছাড়াও একশ্রেনীর দাঁতের ডাক্তার ফুটপাতে মজমা বসিয়ে দাঁত তোলা ও দাঁতের যাবতীয় রোগ নিরাময়ের গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করেন। এত রোগীরা আরো ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। এসব হাতুড়ে দন্ত চিকিৎসক কিংবা যৌন রোগের হারবাল চিকিৎসার নামে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রণয়নে যে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনও নেওয়া হয়, তাও তারা জানেন না।
এদিকে একশ্রেণীর ঔষধ ব্যবসায়ীরা নজরকাড়া শোরুমে তিয়ানশি থেকে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগসহ অন্যান্য জটিল রোগের ওষুধ বিক্রি করেন চড়া দামে। কিন্তু ব্যবহার করে কোনো উপকার হয়নি বলে দাবি করেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অনেকটা এমএলএম পদ্ধতিতে সদস্য সংগ্রহ করে ক্রমবর্ধমান মুনাফা ও লোভনীয় পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে মানুষকে তিয়ানশির বিপণন কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও জনবহুল স্থানে মজমা জমানোর জন্য নানা ঢঙে বক্তব্য দেন ক্যানভাসাররা। সাদা চোখে এইটুকু সবাই দেখে থাকলেও ভেতরে রয়েছে আরও নানা রহস্য। মজমার পাল্লায় সর্বস্বও হারাচ্ছেন অনেকে।
এ ব্যাপারে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আরএমও মোঃ লুৎফর রহমান জানান, ‘সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ছাড়া এবং উপযুক্ত চিকিৎসকের বাইরে কারও ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি আরো বলেন অভিযোগ পেলে, ‘এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সাথে সমন্বয় করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button