
এ আর লিমন,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানা এলাকায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও ক্যাসিনো জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে রামখানা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বাবুসহ ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাগেশ্বরী থানা এলাকায় ক্যাসিনো জুয়া ও মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য ও ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধারের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোঃ এরশাদুল মিয়া (৩৮), মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৭), মোঃ আতাউর জামান (২৭), মোঃ সুজন রানা (২৮), মোঃ এরশাদুল হক (২৮), মোঃ জাঙ্গীর আলম (৩৯), মোঃ লাবু মিয়া (২৮), মোঃ আব্বাস আলী (৩১) কে ৩ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্যের একাংশে ৩ দিনের কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের নামের তালিকায় আটজনের নাম পাওয়া গেছে, যেখানে মোট কারাদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা ৯ জন উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মো. রাশেদুল ইসলাম (৩০), মো. আবু সাঈদ (২৮), মো. আশরাফুল আলম, মো. লেবু ইসলাম লিমন (২০), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৮), মো. মতিয়ার রহমান বাবু (৩০), মো. তারেক আজিজ (২৭), মো. রাসেল (২৫) ও মো. আরাফাত হোসেন (২১)-কে বিভিন্ন পরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা ভোগের জন্য জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. মতিয়ার রহমান বাবু (৩০) রামখানা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে মতিয়ার রহমান বাবুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযান অব্যাহত রাখার কথা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী এলাকায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও ক্যাসিনো জুয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৯ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মতিয়ার রহমান বাবুর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ও আদালতের নথির মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।




