sliderস্থানিয়

জনগনের কল্যাণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা ও সেবার মান আরও বাড়াতে হবে—খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম

মোহাম্মদ আলী,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: গত ২১ আগস্ট প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় “মন্ত্রিসভায় দপ্তর রদবদল করে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে” এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রজ্ঞাপনে আফরোজা খানমের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি এতদিন মন্ত্রী হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন দায়িত্বে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। পূর্বে জারি করা সংশ্লিষ্ট আদেশের অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

স্বাধীনতার পর আফরোজা খানম রিতার আগে মানিকগঞ্জ থেকে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম চৌধুরী। তিনি ১৯৮২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে আফরোজা খানম রিতা বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

মন্ত্রণালয়ের চলমান কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ খাতকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।

এবার তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনা, সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনগনের কল্যাণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা ও সেবার মান আরও বাড়াতে হবে-খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমনটি মন্তব্য করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবসে।

২৩ আগস্ট (রবিবার) নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম আজ রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করেন।

এ উপলক্ষ্যে তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন কর্মসূচি, খাদ্যশস্য সংগ্রহ, মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধবভাবে বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দৃশ্যমান পরিবর্তনের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খাদ্যমন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ও সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঐক্যবদ্ধভাবে, সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button