
মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: বর্ষার আগমনী সুরে প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার পর কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুটতে শুরু করেছে বর্ষার ঐতিহ্যবাহী কদম ফুল। সড়কের পাশ, খাল-বিলের তীর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বর এবং গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন স্থানে কদম গাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।
রবিবার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কদম ফুলের গোলাকার সাদা-হলুদ পুষ্পস্তবক দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। ভোরের শিশির আর বৃষ্টিভেজা আবহে ফুলগুলো আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই কদম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গাছের নিচে ভিড় করছেন এবং স্মৃতিবন্দি করতে ছবি তুলছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা এলেই কদম ফুল প্রকৃতিকে ভিন্ন এক রূপ দেয়। বছরের অন্য সময় এমন দৃশ্য চোখে না পড়লেও বর্ষাকালে কদম ফুলের সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবেশে এ ফুল বর্ষার বার্তাবাহক হিসেবে পরিচিত।
বাংলা সাহিত্য, গান ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কদম ফুল। কবি ও সাহিত্যিকদের নানা রচনায় বর্ষা ও কদমের সৌন্দর্যের কথা উঠে এসেছে বারবার। ফলে প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বাঙালির ঐতিহ্য ও আবেগেরও অংশ। কদম নিয়ে গ্রামবাংলায় ছড়া ও কবিতা রয়েছে। যেমন “চাঁদ উঠেছে, ফুল ফুটেছে,কদম তলায় কে? হাতি নাচছে ঘোড়া নাচছে সোনামনি বে।” পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কদমসহ দেশীয় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশীয় গাছপালা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।
কদমের সংস্কৃতি নাম কদম্ব। কদম মানে হলো দয়া, বিরহীকে দুঃখী করে।প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। কদম ফুলের অনেক নাম রয়েছে। যেমনঃ বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকোশিনী, পুলকি, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সরভি, সিন্ধুপুষ্প। এর আদি নিবাস ভারতের উঞ্চ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কদম গাছ দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়া অচীন ভারত নেপাল শ্রীলঙ্কা কম্বোডিয়া লাউস ভিয়েতনাম থাইল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ার মালয়েশিয়া পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়ায় এই গাছ রয়েছে।বর্ষার স্নিগ্ধ আবহে ফুটে থাকা কদম ফুল এখন কাজিপুরের প্রকৃতিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। প্রকৃতির এই মনোরম রূপ স্থানীয় মানুষের মনে এনে দিচ্ছে স্বস্তি ও আনন্দের বার্তা।




