sliderস্থানিয়

কাজিপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে চরঞ্চলের বাসিন্দারা ভাঙ্গন ও বন্যার আতঙ্কে রয়েছে

মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে বৃদ্ধি পাচ্ছে যমুনা নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীটির অববাহিকায় গড়ে ওঠা চরাঞ্চল ও দ্বীপচরের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী ও চরের লাখো মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র বন্যা ও নদীভাঙনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সকালে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আমনের বীজতলা ও কাঁচা শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

যমুনা তীরবর্তী নতুন মাইজবাড়ী চরের বাসিন্দা বেল্লাল হোসেন বলেন,”পানি যেভাবে বাড়তাছে, তাতে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। ফসলি জমি তো গেলই, ঘরের ভিটায়ও পানি ছুঁই ছুঁই করতাছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই অনেক এলাকা তলিয়ে যাবে।”

যমুনা নদী বেষ্টিত এই উপজেলায় বন্যা ও নদীভাঙনকে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্থায়ী অভিশাপ বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চরে স্হায়ী বাসিন্দারা বলেন, “একদিকে বন্যা, অন্যদিকে সর্বগ্রাসী নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর চরম মানবিক সংকটে পড়ে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দেয়। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।”তিনি উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নদী ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ ও প্লাবিত এলাকার মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার দাবি জানান।

দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউনিয়নগুলোর জন্য জিআর চাল, টাকা এবং প্যাকেট শুকনো খাবার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বাড়ছে। এ কারণে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে ও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের নজরদারি রয়েছে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button