
রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে, প্রবাস ফেরত যুবক শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।
সোমবার ৬ জুন বিকেলে উপজেলা লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর ঝিড়ারপার চৌকিদার বাড়ির মোড়ে মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন লোহাজুরি ইউপি সদস্য জসীমউদ্দীন, নিহতের পিতা আব্দুল কাদির, খালেদা আক্তার, মোঃ শফিক, নিহতের খালাতো ভাই খোকন মিয়া এবং মামলার বাদী বেগম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা শফিকুল ইসলাম হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বর্তমানে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঠিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধানের দাবি জানান।
উল্লেখযোগ্য যে গত ২৭ জুন রাতে প্রবাস ফেরত শফিকুল ইসলামকে লোহাজুরী ইউনিয়নের ঝিড়ারপার গ্রামে তার বাড়ি থেকে রসুলপুর বাজারে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পার্শ্ববর্তী ডোবায় রক্তাক্ত অবস্থায় তার অর্ধেক শরীর পানি ও বাকি অর্ধেক রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। পথচারীরা তার গলার গুংগানির শব্দ শুনে ডোবা থেকে তাকে উদ্ধার করে, ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী রিমা আক্তার বলেন, বাড়ির জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধীদের জেরে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে আসামিরা আমাকে ও আমার চার বছর এবং এক বছর বয়সী দুই সন্তানকে হত্যার হুমকি দিতেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই এবং আমার সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।
মামলার বাদী নিহত শফিকুল এর বড় বোন বেগম, অভিযোগ করে বলেন আমরা যে এজাহার প্রস্তুত করেছিলাম কটিয়াদী মডেল থানায় সেটি গ্রহণ না করে তাদের নিজের মতো করে একটি এজাহার প্রস্তুত করিয়েছেন। আমরা যাদের আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম তারা তাদেরকে বাদ দিয়ে অন্যদেরকে আসামি করে দিয়েছে। যার ফলে মামলার প্রকৃত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমার নিহত ভাইয়ের ছোট ছোট সন্তানদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুস্থ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত আসামিদের বিচার এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে, হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার এবং পরিবারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।




