টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন ছিলো সাব্বিরের

এক সময় তাকে বলা হতো টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ। টি-টোয়েন্টি দিয়েই তার গায়ে উঠেছে জাতীয় দলের জার্সি। পরে ওয়ানডেতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন ভালোভাবেই। এক সময় তার ব্যাটিংয়ের সুযোগ আসতো পাঁচ নম্বরে গিয়ে। আর এখন সীমিত ওভারে বাংলাদেশের তিন নম্বর ব্যাটসম্যান তিনি। বলা হচ্ছে সাব্বির রহমানের কথা। ছোটবেলায় যায় এক নম্বর স্বপ্ন ছিলো টেস্ট ক্রিকেট খেলার।
সাব্বিরের টেস্ট খেলার স্বপ্নটা হয়তো পূরণ হয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই। এই সিরিজের দুই টেস্টের প্রথমটির জন্য ইতোমধ্যেই স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ঘোষিত দলে আছেন সাব্বিরও। এবারই প্রথম দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের জন্য তার উপর ভরসা করলেন নির্বাচকরা। সাব্বির মুখিয়ে আছেন এই ভরসার মূল্য দিতে।
টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে সাব্বির বলছেন, ‘আমার আসলে টেস্ট খেলারই স্বপ্ন ছিলো। সব ক্রিকেটারেরই এই স্বপ্ন থাকে। টেস্ট খেলতে পারা তাই আমার কাছে স্বপ্ন পূরণের মতো ব্যাপার। কিন্তু হুট করে তো আর টেস্ট খেলে ফেলা যায় না। আমি তাই প্রস্তুতি নিয়েছি ধাপে ধাপে।’
এই ধাপে ধাপে নেয়া প্রস্তুতিটাই সাব্বিরকে করে তুলেছে পরিণত। সময়ের খেলায় তিনি হয়ে উঠেছেন ব্যাটিং লাইনের অন্যতম ভরসা। কদিন আগেও তিন নম্বরে কাকে খেলাবেন, এ নিয়ে দ্বিধায় ভুগতে হতো টিম ম্যানেজমেন্টকে। সেই দ্বিধার ফেরেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে ম্যানেজমেন্ট তাকে নামিয়ে দিলো তিন নম্বরে। সাব্বিরও দিলেন দারুণ প্রতিদান। খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
পরে ইংলিশদের বিপক্ষেও তিন নম্বর জায়গাটা হয়ে থাকলো তার। সেখানেও সপ্রতিভ ব্যাটিংই করেছেন এই তরুণ। প্রথম ম্যাচে ১৮ করার পর পরের ম্যাচে ৩ হয়তো তা বলছে না। তবে তৃতীয় ম্যাচে ৪৯ রান করে ঠিকই ব্যাটিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।
এই পরিণত সাব্বিরকে এর মধ্যেই টেস্ট একাদশে কল্পনা করা শুরু করে দিয়েছেন চান্দিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশের প্রধান কোচের দারুণ ভরসার পাত্র হয়ে উঠা সাব্বির অবশ্য শুধু ব্যাটিং নিয়েই পড়ে থাকছেন না, যদিও তাকে কেবল ব্যাটসম্যান হিসেবেই চিন্তা করছেন কোচ। নিজের বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে সাব্বির বেশ উন্নতি ঘটিয়েছেন নিজের বোলিংয়েরও। আগে শুধু লেগ স্পিন করলেও সাব্বির আয়ত্তে এনে ফেলেছেন অফ স্পিনের কারিকুরিও।
টেস্ট সিরিজ শুরুর আগের দুই প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমটিতে তিন উইকেট নিয়েছেন সাব্বির। এর মধ্যে দুটি লেগ স্পিনে। অন্যটি শিকার করেছেন অফস্পিনের জাদুতে। এক হাতেই এমন বোলিং বৈচিত্র নিয়ে সাব্বির বলেন, ‘আমার তো আসলে লেগ স্পিনের গুগলি বা এ ধরনের অস্ত্র নেই। তাই অফস্পিনটাও শিখে ফেলেছি।’
ব্যাটিং- ফিল্ডিং এবং বোলিংয়েও ক্রমেই পরিণত হয়ে উঠা সাব্বিরকে এখনই টেস্টে নামানোর দরকার ছিলো নাকি আরো একটু সময় পাওয়ার কথা ছিলো তার; এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে সেই বিতর্কের ফলাফলটা বোধহয় সাব্বিরকে টেস্ট খেলানোর পক্ষেই যাবে। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডেতে নিজেকে প্রমাণ করা সাব্বির টেস্টেও নিশ্চয় প্রমাণ করতে পারবেন। তবে তার আগে তাকে সুযোগ তো দিতে হবে! সেই সুযোগ পেয়ে গেছেন সাব্বির। বাকি কাজটা তার হাতে; কখনো ব্যাট ধরে, কখনো বল ঘুরিয়ে!




