sliderস্থানিয়

রক্তের ভুল রিপোর্টে প্রসূতির জীবন ঝুঁকিতে

তপন দাস, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে এক প্রসূতির জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ কাজিরহাট হাজীপাড়া এলাকার মোঃ মোতালেব হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ রোকেয়া বেগমের (প্রসূতি) তৃতীয় সিজারিয়ান অপারেশনের পূর্বে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণের জন্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তার রক্তের গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ (O-)’ বলে রিপোর্ট প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করা হয়। ওই পরীক্ষায় পূর্বের রিপোর্টের সঙ্গে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে আরও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করলে রোগীর প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ‘এ নেগেটিভ (A-)’ শনাক্ত হয়।

ভুল রিপোর্টের কারণে প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহে দেরি হয়, এতে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েন বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে সঠিক রক্ত সংগ্রহ করে সফলভাবে সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

ভুক্তভোগীর স্বামী মোঃ মোতালেব হোসেন বলেন,“জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। সময়মতো ভুল ধরা না পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল যাতে না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button