
রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি : কটিয়াদীতে মৌসুমী ফলে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য, মিশিয়ে ফল পাকিয়ে, বাজারজাত করছে এক শ্রেণীর অসাধুব্যবসায়ী। ফরমালিন, কার্বাইড, ইথাইলিন ও ইথারিল স্প্রে দিয়ে পাকানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী ফল।
কটিয়াদী বাজারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা ফল গুলোর অধিকাংশই কৃত্রিমভাবে পাকানো। বাণিজ্যিকভাবে কলা সহ সব ধরনের ফল পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনারস যেখানে ১২/১৫ দিনের বেশি সংরক্ষণ করা যায় না। সেখানে কিন্তু ৫০০ পিপিএন, এনএনএ বা ১০০ পিপিএন জিএ দ্বারা সোধন করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৪১দিন পর্যন্ত আনারস সংরক্ষণ করা যায়।
এভাবেই রাসায়নিক উপাদান প্রয়োগ করে সব ফলই স্বাভাবিক সময়ের আগেই পাকানো হচ্ছে। মূলত ইথাইলিন ও ইথারিল (এক ধরনের হরমোন) স্প্রে করে এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে ফলমূল পাকানো হয়। স্বাভাবিকভাবে এ সমস্ত ফল কিন্তু দু-তিন দিনের বেশি রাখা যায় না এবং পচে নষ্ট হয়ে যায়। আর বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের ফলে, ফলগুলো দীর্ঘদিন সতেজ থাকে। যার ফলে হুমকির মুখে পরেছে জনস্বাস্থ্য। প্রশাসন এগুলো দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী উপজেলার বাজারগুলোতে অহরহই বিক্রি হচ্ছে ফরমালিন, ক্যালসিয়াম, কার্বাইড, ইথাইলিন, ইথারিল স্প্রে দিয়ে পাকানো ফল। এখন আপেল, আঙ্গুর, কলা, আম, নাশপাতি, কমলালেবু সহ বাইরে থেকে আসা বেশিরভাগ ফলই ঘরে রাখলে সহজেই নষ্ট বা পচন ধরে না। এর মূল কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, আঙ্গুর, আপেল, নাশপাতি, কমলালেবু সহ দেশের বাইরে থেকে আসা বেশিরভাগ ফলেই মেশানো থাকে ফরমালিন। দেশে উৎপাদিত ও অপরিপক্ক ফল পাকানোর জন্য কার্বাইড কিংবা, দেয়া হয় আগুনের তাপ। যে কারণে ফলের আসল স্বাদ যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি উপকারের বদলে দেখা দেয় মারাত্মক অসুখ-বিসুখ।
কটিয়াদী ফল ব্যবসায়ী কাইম জানান, একগ্রাম ফরমালিন মিশ্রিত পানির মিশ্রণে ১০/১২ কেজি আঙ্গুর বা নাশপাতি ভেজানো হয়। অপরদিকে আপেল ও কমলালেবুতে সেই মিশ্রিত পানি ছিটিয়ে দেওয়া হয় । যে কারণে তিন চার সপ্তাহ রাখলেও পচন ধরে না এবং এতে মাছিও বসে না। তবে ফরমালিনের ক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেলে এ সমস্ত ফল দ্রুত সম্ভব পচে নষ্ট হয়ে যায় । অপর ফল ব্যবসায়ী বাবুল বলেন আঙ্গুর ও নাশপাতি খোলা রাখলে ২/৩দিন ভালো থাকে, আর আপেল ভালো থাকে পাঁচ দিন। অথচ পাইকারি বাজার থেকে ফল এনে বিক্রি করতে কখনো কখনো এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যায়। তবে দু-একদিনের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেলে তাতে ফরমালিন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
এদিকে আইন প্রয়োগকারীদের মতে বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ এবং বিশুদ্ধ খাদ্য সংক্রান্ত শাস্তির বিধি সময়োপযোগী করা উচিত। কারণ পুরনো আইন অনুযায়ী ভেজালের জন্য দায়ীকে দুই শত টাকা জরিমানা অথবা ৩ মাসের জেল দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে খাদ্য ভেজালের জন্য অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করা হলে ২০০ টাকা জরিমানা দিয়ে পাড় পেয়ে যায়, যে কারণে ভেজাল প্রতিরোধে আইন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। সাময়িক জরিমানার বিধানের চেয়ে বড় ধরনের সাজার ব্যবস্থা থাকলে এ বিষয়ে ফলপ্রসু কিছু আশা করা যেতে পারে।
উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ইসাক খান জানান ফরমালিনযুক্ত ফল আর্সেনিকের চেয়েও ভয়ানক ক্ষতিকর এতে লিভার, কিডনি সমস্যা সহ ক্যান্সার হওয়ার অধিক ঝুঁকি থাকে।




