
শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও সদর উপজেলায় পৃথক দুই ঘটনায় মা-ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত ঝগড়ার জেরে আমেনা বেগম ও তার দেড় বছরের শিশু আসলাম কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুস সালাম গুরুতর জখম হয়েছেন।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে আব্দুস সালামের ছোট ভাই ইউসুফ আলী তাঁর ভাবি আমিনা বেগম ও ভাতিজা আসলামের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাঁদের হত্যা করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে আব্দুস সালাম বাড়িতে ফিরলে অভিযুক্ত ইউসুফ আলী তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে একই রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে নিজ বাড়িতে সজীব হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত সজীব হোসেন ওই এলাকার মুনসের আলীর ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, সজীবের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা সজীবের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর পেছনের কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। দৌলতপুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া সদর উপজেলার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।




