sliderস্থানিয়

শিবগঞ্জে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫ হাজার বেশী মজুদ কোরবানীর পশু

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: আর মাত্র কয়েকদিন বাকী পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহাকে ঘিরে শিবগঞ্জের হাটগুলোতে চলছে কোরবানীর পশু বেচাকেনার ধুম।

সরেজমিনে উপজেলার মনাকষা,খাসের হাট,আড়গাড়া ও তত্তীপুর.কানসাট,শ্যামপুর চামা বাজার ও রানীহাট্টি সহ বিভিন্ন গরু ছাগলের হাট ঘুরে এলাকা ও বাইর থেকে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার গরু ছাগলের হাটে দাম একটু চড়াই আছে। বাইর থেকে অনেক পাইকার পশু ক্রয়ের জন্য আসছে। ঠিক তেমনি স্থানীয়রাও কিন্তু তাদের পছন্দমতো কোরবানির পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। এবার গরু হাটগুলিতে ভারত থেকে আমদানীকৃত গরুর সংখ্যার একেবারেই নগন্য। তবে বাড়িতে পালিত গরুর সংখ্যাই বেশী। শিবগঞ্জের সাধারণ বেকার যুবকরা বাড়িতে গরু পালন করেই কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। এধরনের একজন যুবক মুকুল বলেন আমি পাঁচমাস আগে দুই গরু এক লাখ ৭০হাজার টাকায় কিনে বিক্রী করেছি দুই লাখ ৫৪ হাজার টাকা খরচ বাদে লাভ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বিয়ন নামে আরো একজন যুবক বলেন একটি বড় গরু এক লাখ ২৫ হাজার টাকায় কিনে চার মাসপর বিক্রী করেছি এক লাখ ৭৭হাাজার টাকায়। খরচ বাদে লাভ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। একই ভাবে বিভিন্ন হাটে বিক্রী করতে উপজেলার শতাধিক যুবক বাড়িতে গরু পালন করে হাটে বিক্রী করে লাভবান হওয়ার কথা জানান।

অন্যদিকে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে এক ধরণের গরুর পাইকার কোরবানীর গরু কিনে জেলার বাইরে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রী করছে। তারা গ্রামের গরু কেনার সময় আনুমানিক ওজন ধরে গরু কেনাবেচাা করছে। বড় গরু মণ প্রতি ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরে কিনছে। ছোট গরুর দাম কিছুটা বেশী। প্রায় মণ প্রতি ৩৫ হাজার টাকা ধরে কেনাবেচা হচ্ছে। সে হিসাবে এক কেজি গরুর মাংসের দাম প্রায় নিম্নে ৭শ টাকা থেকে সাড়ে ৮শ টাকা।

শিবগঞ্জে আবার অনেকে পেশা হিসাবে গরুর খামার করে গরু পালন করছে। তারাও বেশ লাভবান হচ্ছে। সরেজমিনে বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার সর্ববৃহৎ পশুর হাট তর্ত্তিপুরে কোরবানির গরু ক্রয় করতে আসা মনিরুল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা জানান আমি গত কয়েক বছর ধরেই গৃহস্থের কাছ থেকেই গরু ক্রয় করে থাকি। আজ হাটে এসেছি পরিচিত বা জানাশোনা কোন গৃহস্থের কাছ থেকে গরুক্রয় করবো। জানা মতে আমাদের গৃহস্থরা ও খামারিরা হাইজেনিক মেইনটেন্ট করে খাবার দিয়ে থাকে। গরুর মাংসের গুণগত মানও ভালো থাকে। শিবগঞ্জ উপজেলার রাহুল এগ্রো ফার্মের মালিক রুহুল আমিন বলেন, আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু লালন পালন করে থাকি। আমাদের নিজস্ব জমিতে উৎপাদন করা ঘাস এবং সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা দানাদার খাবার খাইয়ে থাকি। যার কারণে আমাদের এখানে গরু আগে থেকেই বিক্রি হয়ে যায়। অন্যদিকে কোরবানীর জন্য ছাগলের হাটেও চলছে রমরমা বেচার কেনা। শুধু তাই নয়,গ্রামেও চলছে ক্ষুদে পাইকারদের আনাগোনা। তার গ্রামের পাড়ায় খাসীর বা ছাগলের মাংস কেজি প্রতি ১২ শ টাকা দরে ছাগল কেনাবেচা করছে। তারা ছাগল কেনার সময় ওজন করে নিচ্ছে। গোটা ছাগলের ওজন করে তিনভাগের এক ভাগ বাদ দিয়ে মাংসের হিসাব করছে। একই চিত্র উপজেলার মনাকষা, চামার হাট,রনীহাট্টি,সহ উপজেলার সবকয়টি ছাগলের হাটেই। তবে বড় খাসীর চেয়ে ছোট খাসাীর দাম আনুপাতিক হারে বেশী ।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন এবার গরু–ছাগল মিলে কোরবানীর পশুর চাহিদা ৫১হাজার ২২৯টি, মজুদ আছে ৫৬হাজার ২৯৬টি। তার মধ্যে ষাড় হলো সাত হাজার সাতশ ৬টি,বলদ হলো ৩হাজাার ৫৯৫টি,গাভী হলো তিন হাজার সাত ৬৯টি,মহিষ ৫৬টি,মোট কোরবানীর পশুর (গুরু) সংখ্যা হলো ১৫হাজার ৭৫টি। অন্যদিকে ছাগল/খাসীর সংখ্যা হলো ২৩হাজার ৭৫৪টি এবং ভেড়ার সংখ্যার হলো ৩৪১টি। তিনি আরো বলেন প্রতি বছরই শিবগঞ্জে গরু ছাগলের সংখ্যা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button