
মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: বর্ষার মৌসুম শুরু না হতেই ক্রমাগত মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের মালচী-কুশিয়ারচর (কালিতলা) সহ বেশ কয়েক এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
ইতিপূর্বে কুশিয়ারচর (কালিতলা) পদ্মারপাড় ৬০ মিটার অস্থায়ী পাক প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু এর বাহিরেও আপতকালিন সময়ের ভাঙন রোধ ঠেকাতে আরো জিওব্যাগ ফালানো সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন লিপি আক্তার নামের এক জন ভুক্তভোগী।
লিপি আক্তার বলেন, আমার বাড়ি ৩ ভাঙ্গা দিয়ে এখনে বসবাস করছি। বর্তমানে আমার শেষ সম্বল ভিটা মাটি টুকু রক্ষা পাবে কি না আমি হতাশায় ভুগছি।
তিনি আরো বলেন, যদি ৬০ মিটারের পাক প্রতিরক্ষামূলক কাজের বাহিরেও আপতকালিন আরো কিছু অংশ জিওব্যাগ ফালানো হতো তাহলে আমার শেষ সম্বল ভিটা মাটি টুকু অত্যন্ত রক্ষা পেতো। আমি উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সরেজমিনে তদারকি করে জানা যায়,সরকারি উদ্যোগে পাক প্রতিরক্ষামূলক চলমান কাজের বাহিরেও অতিসন্নিকটেই লিপি আক্তারের বসত ভিটা। এছাড়াও চলমান কাজের বাহিরেও এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেকেই।
কুশিয়ারচর এলাকার শাকিল গাজী নামের এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী জানান,পদ্মার ভাঙন ক্রমশেই বেড়ে চলছে এবং চলমান কাজের বাহিরেও এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা মিলছে।
কুশিয়ারচর এলাকার লিপি আক্তার বলেন, আমি ৩ বারের নদী ভাঙনি, এবারেরও ভাঙনের কবলের মুখি পড়েছি।
আমি উপর মহলের কাছে জোরদার দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্তত ভিটামাটি টুকু রক্ষা পাবে এবং আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারবো।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খোরশেদ বলেন,বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বে এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙনের দেখা মিলছে।
বর্তমানে অস্থায়ী পাক প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান। কিন্তু আপতকালিন চলমান কাজের বাহিরেও অস্থায়ী জিওব্যাগ ফালানো সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন (মুসা) আরো বলেন, নদীর ভাঙন রোধ ঠেকাতে শুধু জিওব্যাগ নয় স্থায়ী বেরি বাঁধ নির্মাণ সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকারি ভাবে অস্থায়ী পাক প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে এমন মহৎ উদ্যোগ নেওয়াতে সরকার প্রধান কে ও স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত কে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, পদ্মাপাড় ভাঙনের বিষয়টি আমি অবগত আছি। আমাদের বর্তমানে অস্থায়ী ৬০ মিটারের পাক প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবো।



