
রতন ঘোষ কটিয়াদী প্রতিনিধি :উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের মসূয়াগ্রামে শুরু হয়েছে অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র কার সত্যজিৎ রায়ের পৈত্রিক বাড়িতে ১৩ মে বুধবার থেকে ৫দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা।
জনশ্রুতি আছে প্রায় দুই শত বছর আগে সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরিকিশোর রায় চৌধুরী, “কাল ভৈরবী” পূজা উপলক্ষে এই মেলার প্রচলন করেছিলেন। এরপর থেকে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ বুধবার এই মেলা শুরু হয়। বর্তমানে কাল বৈরী পূজা বন্ধ হয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি মেলাটি।
উল্লেখযোগ্য যে সত্যজিৎ রায়ের এই পত্রিক বাড়িটি রায়বাড়ী নামেই পরিচিত। যার সামনে খোলা মাঠ ও পুকুরের বিশাল জায়গা জুড়ে বসে এ মেলা। জানা যায় এ বাড়িতেই ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী এবং ১৮৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়ের পিতা বিশিষ্ট ছড়াকার সুকুমার রায়। তারা ১৯৪৭ সনে ভারত বিভক্তির পূর্বেই সপরিবারে কলকাতা চলে যান। তাদের পরিত্যক্ত কারুকার্য খচিত ভগ্ন বাড়িটি বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে আংশিক সংস্কার হয়েছে।
মেলার আয়োজকরা জানান মেলায় রয়েছে রকমারি পণ্যের কয়েকশত স্টল। এরমধ্যে রয়েছে কাঠের আসবাবপত্র,খেলনা, গৃহস্থালির নানান সামগ্রী, মিষ্টি ও প্রসাধনি সহ নানা ধরনের দোকান। এছাড়াও রয়েছে শিশুদের চিত্ত বিনোদনের জন্য নাগরদোলা সহ নানা আয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা মানিক ভট্টাচার্য জানান, মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কবি সাহিত্যিক ও বহু দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। প্রতি বছরের মত এবারও বসবে মেলার তৃতীয় দিনে গান ও কবিতা পাঠের আসর।
মসূয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্করও এবং সমাজকর্মী রমজান আলী জানান শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলা এই অঞ্চলের সম্প্রীতির প্রতীক। মেলা চলাকালীন এই গ্রামের আশেপাশের গ্রামগুলিতে চলে উৎসবের আমেজ।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রাম বাংলার লোকট সাংস্কৃতিই হলএই মেলা।মেলাও উপলক্ষে নিরাপত্তার ব্যবস্থা অন্যান্য বছরের ন্যায়ই থাকবে। উল্লেখযোগ্য যে এই মেলার ইজারার ডাক পূর্বে ছিল ৭১ হাজার টাকা, বর্তমানে এই মেলার ডাক হয়েছে ছয় লক্ষ টাকা।




