
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মাদক সেবনে আটক হওয়ার নেপথ্যে মদদ দেওয়ার কথিত অভিযোগে ভাতিজাসহ এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কদমী গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় কুদ্দুস মাতুব্বরের বাড়ির কাছে গ্রাম্য রাস্তার উপর এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, কদমী গ্রামের বাসিন্দা মৃত কুদ্দুস মাতুব্বরের ছেলে রহমান মোল্লা (৪৬) ও তার ভাতিজা টুকু শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৭)।
রহমান মোল্লা ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তিনি উপজেলা বিএনপি’র কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। অপরদিকে তার ভাতিজা সুমন শেখ রূপাপাত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক।
এলাকাবাসী গুরুতর আহত চাচা ও ভাতিজাকে উদ্ধার করে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। ফরিদপুর মেডিকেল থেকে রহমান মোল্লাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। তবে সুমন শেখ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে রহমান মোল্লার সাথে রূপাপাত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওই ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মোল্লার বিরোধ চলে আসছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ মোল্লার সমর্থক কদমী গ্রামের বাসিন্দা হেলালের ছেলে সজলকে গত ২৫ মার্চ মাদক সেবনের অভিযোগে পুলিশ আটক করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন।
বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান তাদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন এমন সন্দেহে গত শুক্রবার রাতে ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ মোল্লার সমর্থক হিসেবে পরিচিত সজল মোল্লা (১৯), সজিব মোল্লা (৩০), নাজমুল শেখ (২২), রাসেল (২০), রাকিব মোল্লা (২৫) ও শিপন সহ আরো অনেকে (২৪) রূপাপাত বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আব্দুর রহমান ও তার ভাতিজাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
আহত আব্দুর রহমানের চাচাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ফিরোজ মোল্লার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবনের সাথে জড়িত। সজলকে পুলিশ ধরার পর থেকেই তারা সন্দেহ করে আসছিল সজলকে ধরিয়ে দেওয়ায় রহমানের হাত রয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নিজের যুক্ত থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কৃষক লীগ নেতা মো. ফিরোজ মোল্লা বলেন, তিনি শুক্রবার রাতের ওই সময় গোপালগঞ্জে ছিলেন। তবে তিনি পরে জানতে পেরেছেন ছেলেপেলেরা দুইজনকে মারধর করেছে। এ বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর এলাকায় পুলিশ অভিযান চালায়। তবে হামলাকারীরা পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।



