sliderস্থানিয়

মানিকগঞ্জে প্রাণবৈচিত্র্য ও দেশীয় বীজ সংরক্ষক মধুমালা বেগমের স্মরণ সভা

প্রেস রিলিজ: মানিকগঞ্জের পুটাইল ইউনিয়নে কালিগঙ্গা নদীর তীরের নিভৃতচারী ও সংগ্রামী কৃষাণী মধুমালা বেগম (৫৯)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী তীরের প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও তিনি আজীবন কাজ করেছেন অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক কৃষি নিয়ে।

গতকাল মানিকগঞ্জ পুটাইল বাজার সংলগ্ন কৃষিপ্রতিবেশ বিদ্যাচর্চা কেন্দ্র (রহিমা বেগম) বাড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।
স্মৃতিচারণ সভায় বক্তারা বলেন, মধুমালা বেগম কেবল একজন কৃষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গ্রামবাংলার বিপন্ন প্রাণবৈচিত্র্যের এক অতন্দ্র প্রহরী। বিশেষ করে বিষমুক্ত জৈব কৃষি চর্চা এবং দেশীয় বীজের সম্ভার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা অতুলনীয়। তাঁর বসতবাড়িতে গড়ে তোলা সংগ্রহশালায় প্রায় ১৫০ প্রজাতির দেশীয় বীজসহ, প্রচীন বীজ রাখার মাটির পাত্র(জালা,কুপি,সান,মটকা এমনকি কাসা ও পিতলের পাত্র ইত্যাদি) এক অনন্য ভাণ্ডার রয়েছে, যা বর্তমান সময়ের আধুনিক কৃষিতেও এক বিরল দৃষ্টান্ত। এছাড়া তিনি অকেন লোকজ ধারার গান জানতেন ও গাইতেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ (বীজ রাখার সিকা,বাঁশ বেতের কাজ) সহ হস্তশিল্পের কাজে তাঁর বেশ নৈপুন্ন ছিল এবং তিনি বেশ পরপোকারি মানুষ ছিলেন।

সভায় উদ্যোমী নারী সংগঠনের সভাপতি রহিমা বেগমের সভাপতিত্ত্বে বারসিক কর্মকর্তা শিবানী চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় আলোনায় অংশগ্রহন করেন বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী অব: প্রধান শিক্ষক মো.ইস্কান্দার মীর্জা,বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল চন্দ্র রায়, উন্নয়নকর্মী মো.নজরুল ইসলাম,নারীনেত্রী রিজিয়া বেগম,তানিয়া আক্তার। প্রয়াত মধুমালা স্বামী কৃষক মো.জমত আলী, তাদের পুত্র মো.আজমত আলী ও আবুবকর মিয়া প্রমুখ।

আলোচকরা উল্লেখ করেন, মধুমালা বেগম মনে করতেন বীজ কৃষকের প্রাণ। তাই তিনি বিলুপ্তপ্রায় অনেক দেশীয় শস্য ও অচাষকৃত উদ্ভিদ পরম মমতায় রক্ষা করে গেছেন। কালিগঙ্গার ভাঙন আর অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও তিনি তাঁর সংগৃহীত বীজের ভাণ্ডার আগলে রেখেছেন, যা আগামী প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক সমাজ, পরিবেশকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মধুমালা বেগমের এই বীজ সংগ্রহশালাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও তাঁর কাজকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সভার শেষে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button