
পতাকা ডেস্ক: এনসিপি গঠনের সময় পদ-পদবির বিরোধে বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতারা দলটিতে ফিরছেন। আজ রোববার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ, রাফে সালমান রিফাত এনসিপিতে যোগ দেবেন। তাদের গঠিত প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশ থেকে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের কয়েকজন নেতাও যোগ দেবেন।
উভয়পক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের মধ্যে ছিলেন শিবিরের সাবেক নেতারা। অভ্যুত্থানের পরের মাসে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটিতেও তারা ছিলেন। আহসান জুনায়েদ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সালমান রিফাত যুগ্ম সদস্যসচিব পদে ছিলেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠনের সময় পদ-পদবি এবং দলীয় আদর্শ কী হবে– এ নিয়ে টানাপোড়েনে দলটিতে আসেননি। দুই মাস পর গঠন করেন আপ বাংলাদেশ। সাবেক শিবির নেতা ছাড়াও অনেকে যোগ দেন এতে।
গত বছরের নভেম্বর এনসিপি,এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংগঠনটির জোট হওয়ার কথা থাকলেও শেষ সময় তা ভেস্তে যায়। রাষ্ট্র সংস্কারের সঙ্গে জোট করলেও শেষ পর্যন্ত এনসিপি ও এবি পার্টি যায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ঐক্যে। গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচনী সমঝোতা করে বিএনপির সঙ্গে। নির্বাচনের পর আপ বাংলাদেশ ভেঙে কয়েক নেতা জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি গঠন করেছেন।
আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান, মুখ্য সমন্বয়কারী রাফে সালামান, মুখপাত্র শাহরীন সুলতানা ইরাসহ ৩৩ জন নেতা এনসিপিতে যোগ দিলেও, এ তালিকায় নেই সংগঠনটির সদস্য সচিব আরেফিন মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ। তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির সহমুখপাত্র ছিলেন।
এনসিপি গঠনের সময় আলী আহসানকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রাফে সালমানকে যুগ্ম সদস্য সচিব পদে প্রস্তাব করা হয়েছিল। দলটির সূত্র জানিয়েছে, তাদের অনুসারীরা আলী আহসানকে সদস্য সচিব পদে চেয়েছিলেন। তবে এবার আলী আহসানকে এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক কাউন্সিলের (পিসি) সদস্য করা হবে। রাফে সালমানকে নির্বাহী কাউন্সিলের (ইসি) সদস্য করা হবে।
এনসিপিতে যোগদানের সত্যতা নিশ্চিত করে রাফে সালমান বলেন, অতীতে যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন এনসিপিকে শক্তিশালী করতে হবে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, রোববার দুপুরে আরও অনেকেই যোগ দেবেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় গত বছরের ডিসেম্বরে ডা. তাসনিম জারাসহ এনসিপির অন্তত ১৫ নেতা পদত্যাগ করেন, দল ছাড়েন। নিষ্ক্রিয় হয়েছেন কয়েকজন। এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপিতে যোগ দেওয়া বাদে অন্যদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
নারীশক্তির কমিটির পরই পদত্যাগ
এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার এই কমিটি প্রকাশের পর যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি।
মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক এবং মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সানজিদা বুশরা মিশমা, মুখ্য সংগঠক মনোনীত হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।
যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন হাফসা জাহান, নাবিলা তাসনিদ, খন্দকার খালেদা আক্তার, আশরেফা খাতুন এবং মুনা হাফসা। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মঞ্জিলা ঝুমা, যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি, নাহিদা বুশরা, কাজী আয়েশা আহমেদ, নীলা আফরোজ, মাহমুদা রিমি এবং ইসরাত জাহান বিন্দু।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি ঘোষণার পর অরণ্য চৌধুরী প্রীতি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠিতে পদত্যাগের কথা জানান। ফেসবুকে পোস্ট করা এ চিঠিতে তিনি লিখেছেন, নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের নাম দেখে বিস্মিত। কমিটির সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। এনসিপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
পরে যোগ দিতে পারেন ইসহাক সরকার
ছাত্রদল ও যুবদল-দুই সংগঠনেই সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন ইসহাক সরকার। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
পরে নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসহাক। কিন্তু পাননি। ফুটবল প্রতীকে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হন তিনি। সংসদ নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় ইসহাককে।
জানা যায়, ইসহাক এনসিপিতে যোগ দেবেন, তবে আজ নয়।
এ বিষয়ে আজ সকালে ইসহাক বলেন, ‘আমি এনসিপিতে যোগ দিতে পারি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।’




