sliderস্থানিয়

শিবগঞ্জের তেলকুপি কলমদার মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি কলমদর আলিম মাদ্রাসার ৪টি শুন্য পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে আত্মীকরণ ও টাকা আত্মসাত সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মাদ্রাসার সুপারকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

ঘটনাটি কোন সমাধান না হওয়ায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজন বিরাজ করছে । যে কোন সময় বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে বলে জানা গেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গকে নিযে বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে সমাধান করার মাধ্যমে এলাকায় শান্তি আনায়নের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিলেও এখানো সমাধানের কোন প্রক্রিযা শুরু হয়নি। সরজমিনে একাধিক সূত্রে জানা গেছে অত্র মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী চারটি শুন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হলে সুপার ও সভাপতি তার আত্মীয়দের নিয়োগ দেয়ার চক্রান্ত করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগদানের চেষ্টা করলে অন্যান্য প্রার্থী ও এলাকাবাসী ১৫-০০১-২০২৬খ্রী: তারিখে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দ্প্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। তারই প্রেক্ষিতে গত ১৭-০১-২০২৬খ্রী: তারিখের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা অফিস থেকে সুপারকে চিঠি দেয়া হয়।যার স্মারক নং ০৫৪৩৭০৮৮০০০০১০১৫২৫১৯। সূত্র মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার ০৬-০৬-২০২৩ তারিখের স্মারক নং৫৭২৫০০০০০০১১৫০০২১৫৬৮১। সেই চিঠিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অত্র মাদ্রাসার নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু সুপার আব্দুর রহিম সে চিঠির গোপন রেখে ২০/০১-২০২৬: তারিখে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থানান্তর করে শাহাবাজপুর নলডুবরী দাখিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা গ্রহন করে তার ও সভাপতির আত্মীদের নিয়োগ প্রদান করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই চারজনের নিয়োগ ক্ষেত্রে সুপার ৪৪ লাখ টাকা গ্রহন করলেও মাদ্রাসা ফান্ডে কোন টাকা জমা দেননি। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার তেলকুপি কলমদর আলিম মাদ্রাসায় এসএসসি সমমান দাখিল পরিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান শুরুর পুর্বক্ষণে তেলকুপি গ্রামের কিছু লোক অত্র মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রহিমের সাথে নিয়োগ ও নিয়োগ কৃত টাকা নিয়ে আলোচনার জন্য মঞ্চ থেকে নেমে আসতে বললে সুপার মঞ্চ থেকে নামতে রাজী না হওয়ায় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির ্এক পর্যায়ে সুপারকে জোর করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে মাদ্রাসার অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখে।

ঘটনাটি শিবগঞ্জ থানা পুলিশ জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুপারকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসে নিয়ে আসেন। ঘটনাটি মাদ্রাসার দাখিল পরিক্ষার্থী আশরাফুল, নাঈম, তৌহিদ, আরাফাত, মিনহাজ সহ আরো অনেকেই নিশ্চিত করেন। ওই দিন বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:মাজহারুল ইসলাম উভয় পক্ষের কথা শুনে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রহিম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কতিপয় কিছু লোক মব সৃষ্টি করে আমাকে হেনস্ত করেছে, আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে । আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। মাদ্রাসর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো:মনিরুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ কমিটিতে আমি ও সুপার যেহেতু উপস্থিত ছিলাম না। সেহেতু আত্মীকরণ ও অনিয়মের প্রশ্নই উঠেনা । তারা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসা সুপারকে অপদস্ত করেছে। আমি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি এবং লিখিতভাবে অভিযোগ দিবো।

শাহাবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান নিজামুল হক রানা জানান, উভয়ের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। যা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে সমাধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এলাকাতে বসেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:মাজহারুল ইসলাম বলেন, সেদিনের ঘটনাটি মব ছিল না। আমার জানা মতে সুপারকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। তারা একটি রুমে বসে আলাপ আলোচনা করার সময় সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি উভয় পক্ষকে নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি এবং এলাকার শান্তি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button