sliderস্থানিয়

আদালত প্রাঙ্গনে সাংবাদিকের ওপর আইনজীবীর হামলা

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : ১২ এপ্রিল
মানিকগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারী এ্যাডভোকেট মো: জিন্নাত আলীসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রানা পারভেজ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ রানা পারভেজ বাংলা টিভি’র জেলা প্রতিনিধি এবং মানিকগঞ্জ জেলা টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিট’র প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য। একটি দেওয়ানী ১৫২/২২ নং মোকদ্দমার বাদী তিনি। আইনজীবী জিন্নাত আলী ওই মামলায় বিবাদী পক্ষে লড়ছেন।

গত বৃহস্পতিবার সদর সিনিয়র জজ আদালতে মামলাটির শুনানী ছিলো। শুনানীতে অংশ নিয়ে ওই সাংবাদিক ও তার আইনজীবী এজলাস থেকে বের হওয়ার পর জিন্নাত আলী তাদের গতিরোধ করেন। এসময় মামলার বিষয়াদি নিয়ে বাদির আইনজীবির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তর্ক না করার জন্য নিষেধ করলে আইনজীবী জিন্নাত আলী সাংবাদিক রানা পারভেজের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন। চোঁখে-মুখে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি আহত হন। তাৎক্ষনিক বিষয়টি বিচারককে জানানো হয়। সিসিটিভির আওতায় থাকায় ফুটেজ পরীক্ষা করারও অনুরোধ জানানো হয়।

সাংবাদিক রানা পারভেজ জানান, এঘটনায় তিনি জেলা আইনজীবী সমিতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আদালত প্রাঙ্গনে বিচারপ্রার্থীর ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনার বিচার চেয়েছেন তিনি। আইনজীবী সমিতির নেতারা সুষ্ঠ বিচার করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলা দায়রা জজ আদালতের নাজির আব্দুল কাদের জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। ঘটনাস্থলের পাশে সিসিটিভি রয়েছে। সিসিক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণে আছে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী অথবা আইনজীবী সমিতির নেতারা চাইলে ফুটেজ সরবরাহ করা যেতে পারে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএম সফিউল আজম জানান, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমিতির ট্রাইবুন্যালে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত আইনজীবী মোঃ জিন্নাত আলী সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন-বিষয়টিতে তিনি অনুতপ্ত।

মানিকগঞ্জ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিনিটির সভাপতি বি.এম খোরশেদ এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন বলেন- আদালত প্রাঙ্গনে বিচারপ্রার্থী সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একজন আইনজীবীর দ্বারা এমনকর্ম কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাগত অসদাচরণের জন্য বার কাউন্সিলের সনদ বাতিল এবং আদালত অবমাননা আইনে জেলেরও বিধান রয়েছে। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্দোলনের ডাক দেওয়ার হুশিয়ারি দেওয়া হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button