sliderস্থানিয়

বোয়ালমারীতে ১০ গ্রামে ঈদ উদযাপন

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি গ্রামে প্রতিবছরের মতো এবারো ব্যতিক্রমীভাবে একদিন আগেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা শুরু ও শেষ করার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে বেলা সোয়া ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বোয়ালমারীর সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন ঈদের নামাজে, যেখানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভিন্নধর্মী এক ধর্মীয় চর্চার প্রতিফলন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলি ও গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কিছু মানুষ বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন করে আসছেন। একই ধারাবাহিকতায় তারা একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা উপজেলার শুকুরহাটা ও ইছাপাশা গ্রামের কিছু মুসল্লিও এ জামাতে অংশ নেন।

এ বিষয়ে সহস্রাইল দায়রা শরীফের সমন্বয়কারী মো. মাহিদুল হক জানান, আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী। সেখানকার সিদ্ধান্ত এবং সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমরা রোজা ও ঈদ উদযাপন করে থাকি। সে অনুযায়ী এবারও আমরা একদিন আগে ঈদ পালন করেছি।

ঈদের নামাজে আসা স্থানীয়রা জানান, এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়; বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা আমাদের ধর্মীয় রীতি।

শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্লা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, এই এলাকার কিছু মানুষ আগাম রোজা রাখেন এবং ঈদ উদযাপন করেন। এটি তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও অনুসরণের অংশ।

তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদ উদযাপনের প্রচলন থাকলেও, এ ধরনের আগাম ঈদ পালন নিয়ে মাঝে মাঝে আলোচনা-সমালোচনাও করতে দেখা যায়।

এদিকে আগাম ঈদ উদযাপনকে ঘিরে এসব গ্রামে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, বিনিময় করেন ঈদের শুভেচ্ছা। অনেকেই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করেন উৎসবের আমেজে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button