
মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি: রাঙামাটি শহরের ৯নং ওয়ার্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কলেজ গেট। প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের বসবাস এই জনপদে। কিন্তু বিপুল এই জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা এখন নানা সংকটে জর্জরিত। সরকারি সম্পদ দখল করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, অপরিকল্পিত দোকানপাট এবং অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব এলাকাটিকে এক প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
নামে যাত্রী ছাউনি, কাজে বাণিজ্যিক মার্কেট এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত বৃহত্তম নোয়াখালী যাত্রী ছাউনিটি এখন আর সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। যাত্রীদের বসার জন্য তৈরি এই ছাউনিটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে দোকান তৈরি করা হয়েছে। নোয়াখালী বৃহত্তম সমিতি’র মাধ্যমে এই যাত্রী ছাউনির জায়গাগুলো জামানত নিয়ে দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
ভোক্তভোগী সাধারণ মানুষ জানান, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও যাত্রী ছাউনির ভেতর গিয়ে বসার কোনো উপায় নেই। যাত্রী ছাউনিটি এখন পুরোপুরি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে মাসে মাসে ভাড়া তোলা হচ্ছে, যা সরাসরি ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ নুরুন্নবী। তিনি এই অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ করে সাধারণ মানুষের বসার জায়গা উন্মুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।কলেজ গেট একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হলেও এখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ঘিঞ্জি পরিবেশ আর সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই বৃহত্তর এলাকায় দ্রুত আগুন নেভানোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা বা পানির পয়েন্ট স্থাপন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ এর প্রশস্ত সড়ক। কিন্তু কলেজ গেট থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোর দুই পাশ যেভাবে দখল করে দোকানপাট বসানো হয়েছে, তাতে শহর তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। সড়কের দুই পাশ দখল হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের চলাফেরা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে এবং যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় এই অবৈধ দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। ৯নং ওয়ার্ড কলেজ গেট এলাকা দিয়ে কাটাছড়ি যাওয়ার রাস্তাটি প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর রাঙামাটিবাসী একজন পূর্ণ মন্ত্রী পাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। রাঙামাটিবাসীর পক্ষ থেকে মন্ত্রী মহোদয়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন,
আমরা আশা করি, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন। বিশেষ করে কলেজ গেট এলাকায় অবৈধভাবে লিজ বা ভাড়া দেওয়া যাত্রী ছাউনিটি পুনরুদ্ধার, সড়কের দুই পাশ দখলমুক্ত করে সৌন্দর্য বর্ধন এবং কাটাছড়ি যাওয়ার সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করে আমাদের যাতায়াত কষ্ট দূর করবেন।
এলাকার সাধারণ জনগণ প্রশাসনের নিকট দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে যাত্রী ছাউনিটি ব্যক্তির পকেট না ভরে জনগণের সেবায় ব্যবহৃত হয়।



