
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হাদির স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এই দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যমুনায় হাদির স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় এই রেডি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য হাদির পরিবারকে এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার আন্তর্জাতিক তদন্তের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার শর্তে সরকারি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকের এক পোস্টে এ তথ্য জানান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আজকে তার বাসভবনে ফিরনাস এবং আমাকে তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ডেকেছিলেন ১২টায়। … যাইহোক আসার উদ্দেশ্য জানা ছিল না। পরে বুঝতে পেরেছি ফিরনাসের দেখাশোনার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলোর কাগজপত্র হস্তান্তরের জন্য আমাদের আসতে বলা। আমি তাকে স্পষ্ট করে বলেছি, আপনি কি আমার স্বামীর বিচারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন? না হলে আমার ফিরনাস কোন কিছুই গ্রহণ করবে না। তিনি আমাকে আস্বস্ত করেন যে তার হাতে যত কিছু আছে, ইনফ্যাক্ট জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে যেভাবেই হোক এর সর্বশেষ পর্যন্ত সে যাবে হাদি কে সঠিক বিচার পাইয়ে দিতে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (ড. মুহাম্মাদ ইউনূস) পুরোপুরি আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে এই হত্যার তদন্তের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহায়তা করবেন। সে আশ্বাস পেয়ে এরপরেই আমি ওখান থেকে এসেছি।’
সরকার চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে হাদির স্ত্রী বলেন, ‘আমার জীবন, চাকরি এগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করাতে আমি বলে দিয়েছি যে আমি আমার নিজের যোগ্যতা দিয়ে জব নেব। আপনি ফিরনাস জন্য করেছেন। অনেক শুকরিয়া।’
ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন শম্পা। তিনি জানান, ‘আমার ভাইবোনগুলোর উপরে যে হামলা করা হয়েছে, তাতেও তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
সরকারে হাসিনার দোসর রয়েছে, উল্লেখ করে হাদির স্ত্রী বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আজকে তার বাসভবনে ফিরনাসকে এবং আমাকে তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ডেকেছিলেন ১২টায়। সে-ই আসা হলো। মাঝখানে আমার ইনকিলাবের ভাইবোনগুলোকে নির্যাতনের স্বীকার হতে হলো। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় এক পক্ষ এখনো সরকারের মধ্যে যারা হাসিনার দোসর।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল নেওয়া হয়। সবশেষ সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রাণ হারান হাদি।


