sliderস্থানিয়

এসডিএফের ল্যাপটপ ক্রয়ে ১৫ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

রতন রায়হান,রংপুর : অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর উদ্যোগে কমিউনিটি রিসোর্স পার্সন (সিআরপি) দের জন্য ল্যাপটপ ক্রয়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই ক্রয়ে সরকারি ক্রয় নীতিমালা এবং বিশ্বব্যাংকের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে। জানা গেছে, এসডিএফের কমিউনিটি অপারেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী গ্রাম সমিতির ক্রয় কমিটির মাধ্যমে ল্যাপটপ কেনার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। বরং প্রধান কার্যালয়ের এমডি, জিএম (ক্রয় ও অ্যাডমিন) এবং এইচআর বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে কেন্দ্রীয়ভাবে ল্যাপটপ ক্রয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক গ্রাম সমিতিতে প্রায় দুই মাস আগে ল্যাপটপ বিতরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে কোনো রশিদ, কোটেশন বা টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। এতে ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয়ে খোলা টেন্ডার, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থাপনা ও তৃতীয় পক্ষের অডিট বাধ্যতামূলক। তবে এসব নিয়ম উপেক্ষা করেই এসডিএফের হেড অফিস থেকে ল্যাপটপ ক্রয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন রিলাই প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিনে গ্রাম সমিতিতে গিয়ে জানা যায়, ল্যাপটপ ক্রয়ের জন্য সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি অর্থ ব্যয় না করে গ্রামপ্রতি নগদ টাকা তুলে তা ক্লাস্টার অফিসে জমা দেওয়া হয়। পরে জেলা ও অঞ্চল অফিস হয়ে সেই অর্থ প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছায়। সমিতির সদস্যদের দাবি, আসুস ব্র্যান্ডের ল্যাপটপের মূল্য নেওয়া হয়েছে ৯৭,১০০ টাকা এবং এইচপি ব্র্যান্ডের মূল্য ৯৭,৪৫০ টাকা, অথচ ভাউচারে প্রতিটির দাম দেখানো হয়েছে ১,১২,০০০ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এসব ল্যাপটপ পুরোনো মডেলের এবং চীন থেকে রিকন্ডিশন অবস্থায় আমদানি করা, যার প্রকৃত বাজারমূল্য ৪০–৫০ হাজার টাকার বেশি নয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিতরণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ৩,২৫০টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪০০/৫০০টি নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে অধিকাংশ ল্যাপটপ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এসডিএফ কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তারা কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, এই ল্যাপটপ ক্রয়ে প্রায় ১৫১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এবং এতে প্রধান কার্যালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা জড়িত থাকতে পারেন।

সূত্র জানায়, এসব অনিয়ম ও বৈষম্যের কারণে প্রায় ২ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবার সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘটনায় বিশ্বব্যাংক অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এসডিএফের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বরখাস্ত এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button